দ্বীনকে জীবনের উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করার মাঝে জীবনের সাফল্য নিহিত

শাহাদাতের জন্য দোয়া_আলী আহমাদ মাবরুর

শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার বাড়ী গিয়েছেন? ফরিদপুর শহর থেকেও প্রায় এক ঘন্টা লাগে যেতে। আমি যতবারই যাই, খুব বিস্মিত হয়ে ভাবি, কত বছর আগে যখন আন্দোলনের কাজ এতটা বিস্তৃত ছিল না, তখনও এই এলাকার একজন মানুষ ইসলামী আন্দোলনের দাওয়াত পেয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, তার আন্ডারস্ট্যান্ডিংও ছিল অসাধারণ মানের। আমি পারিবারিক সূত্রে জানি, তার শ্বশুড় নিজের মেয়েকে শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার সাথে বিয়ে দিয়ে রাজি হয়েছিলেন পত্রিকার একটি লেখা পড়ে। শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা মেরাজের ঘটনার ওপর অসাধারণ ঐ লেখাটি লিখেছিলেন। 

এত বছর পরও আমি এ ঘটনা চিন্তা করে অবাক হই, কীভাবে সেই সময়ের একজন মানুষের মাঝে ইসলাম সম্বন্ধে এত গভীর ধারনা তৈরি হয়েছিল। কিংবা ধরেন বোমা হামলায় নিহত জামায়াত কর্মী শহীদ জয়নুল আবেদীনের শোকসভায় তার বক্তব্য। শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ধারনা করছেন, তাকেও এভাবে একদিন বোমা আক্রান্ত বা গুলিবিদ্ধ হয়ে মরতে হতে পারে। আকুতিভরা কন্ঠে তিনি শাহাদাত কামনা করেছেন। এই বক্তব্যটা শুনলেও আমি বিমোহিত হই। ইসলামী আন্দোলন আর শাহাদাত- এ দুটো যে একেবারে সমান্তরাল -- এ বিষয়টি তিনি কত গভীরভাবে অনুধাবন করেছিলেন। ওখান থেকে আজকের বাস্তবতায় যখন আসি, তখন দেখি, শাহাদাতের মর্যাদা ও গুরুত্ব নিয়ে অনেক আলোচনা বা লেখালেখি হচ্ছে। 

কিন্তু নিজের জন্য শাহাদাত চাওয়ার প্রবণতা অনেকটা কমে এসেছে। জীবন হারানোর বিষয়ে আমাদের এখন অনেক ভয়। এমনকী যারা সারাদিন অপরকে জীবন কুরবানি করার পরামর্শ দিচ্ছেন, তাদের অনেকেই জীবনের ঝুঁকি আছে বলেই বহু আগে সেইফ জোনে চলে গেছেন। তাই তাদের কথাতেও আর সেভাবে প্রভাব পড়ে না। কাল থেকে বিষয়গুলো নিয়ে খুব ভাবলাম। পরে অনুভব করলাম, শাহাদাত কামনা করার জন্য আলাদা সাহসের দরকার হয়। জীবন যাপনই ভিন্নরকম হতে হয়। যে পরিমান বৈষয়িকতায় আমরা মত্ত হয়ে আছি, তাতে জীবনকে বিলিয়ে দেয়ার মতো সৎসাহস অর্জন করা সহজ নয়। আমার কাছে শাহাদাতের আকাংখা কমে যাওয়ার কিছু কারণ খুব প্রতীয়মাণ হলো: 

১. জাগতিক মোহগ্রস্ততা। ভোগবাদিতায় মত্ত জীবন। 

২.আন্দোলনের বুঝ না থাকা। যতটুকু বুঝ আছে তা প্রয়োগে অনীহা থাকা 

৩. এমন কোনো ফ্যাক্টর না হতে পারা, যাতে বাতিলশক্তি আমাকে হুমকি মনে করে 

৪. আবেগ কমে যাওয়া। এ কারণেই, আমরা সকালে শহীদের জন্য দু লাইন লিখে একটু পরই তার শাহাদাতের চেতনার বিরোধী কাজে যুক্ত হতে পারছি। 

 ৫. আন্দোলনের অনেক কৌশলের মতো শাহাদাতকেও সময়োপোযগী মনে না করা। 

দৃষ্টিভঙ্গিটি এমন হয়ে যাচ্ছে যে, আগে যেভাবে শাহাদাতের প্রয়োজনীয়তা ছিল, বিশ্ব পরিস্থিতি পাল্টে যাওয়ায় এখন আর তেমনটা প্রয়োজন নেই। এরকম আরও অনেক কারণই বলা যেতে পারে। তবে, প্রকৃত সত্য হলো, তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক- উভয় অর্থেই ইসলামী আন্দোলন শাহাদাতের রক্তে বেগবান হয়। শাহাদাত বা শহীদ হওয়ার আকাংখাকে এড়িয়ে গেলে আমরা কখনোই প্রত্যাশিত মনজিলে পৌঁছতে পারবো না।

Share:

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন