১৬ সেপ্টেম্বর সকাল নয়টা। পূর্ব থেকেই খােলা ময়দানে ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। সকাল হতেই গোল করে হাজার হাজার লিবীয় ফাঁসির মঞ্চের চতুর্দিকে জড় করা হলো। পৃথিবীর ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথম হাজার হাজার। মানুষের সম্মুখে কোন জননন্দিত নেতাকে ফাসিকাষ্ঠে ঝুলানো হল । এই ফাঁসি অবলোকন করানোর জন্য সেদিন ইতালী সরকার প্রায় বিশ হাজার মানুষকে সমবেত করেছিল। দুধের শিশুসহ আশীতপরায়ণ বৃদ্ধাও ছিল ওই বিশ হাজার মানুষের মনে। কড়া পাহারা চতুর্দিকে। অসংখ্য সৈন্য অস্ত্র হাতে বিশ হাজার মানুষকে নিশ্চুপ রেখেছে। পিনপতন নিস্তব্ধতা। প্রাণপ্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার জন্য সকলে উদগ্রীব। তাদের অন্তরে ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হচ্ছে একটি নাম "ওমর মুখতার, ওমর মুখতার!! কিন্তু মুখফুটে উচ্চারণ করতে পারছে না | কড়া প্রহরায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অসাংবাদিত নেতা ওমর মুখতাবকে ফাঁসির মঞ্চে আনা হল । তিনি সমবেত জনতার দিকে দৃষ্টি ফেরালেন । ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে অনেকে। অনেকে চোখ মুছছে আস্তিন দিয়ে। অনেকে ঠোট কামড়ে কান্না রোধ করার চেষ্টা করছে। অথচ তারা শব্দ করতে পারছে না । ওমর মুখতারের হাত পায়ে বাধন খুলে দেয়া হল। ধীরে ধীরে তাকে ফাসির দড়ির নিকট আনা হলাে।
ওমন মুখতার জাল্লাবিয়ার পকেট হতে ছােট মু্সহাফটি বের করলেন। ক’মিনিট স্থির ভাবে তিনি পবিত্র কোরআনের কয়েকটি আয়াত পাঠ করলেন করলেন। তাকে এবার ফাঁস লাগানাে সিড়ির উপর উঠান হল। তিনি সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে কটি কথা বললেন, যা জনতার সম্মখে বসে থাকা ব্যক্তিরা দ্বাড়া কেউ শুনতে পেল না । তিনি বললেন- “আমরা কখনাে আত্মসমর্পণ করবো না আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ও কখনাে অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না। বীরের নেয় মৃত্যুবরণ করা অনেক উত্তম পরাধীনতার জীবন থেকে । এরপর ফাঁসির মঞ্চে তার গলা পরিয়ে দেয়া হল। তিনি উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করলেন “আশহাদু আল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহ লাশারিকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ও রাসূল।" | সমবেত জনতার অনেকে দৃষ্টি অবনত করলো । এ দৃশ্য দেখা যায় না। অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েছে। কষ্টে তাদের বুক ফেটে যাচ্ছে। কিন্তু তব্যক্ত করতে পারছে না। তারাও মৃদু স্বরে কালিমা শাহাদাৎ পাঠ করছে। সামরিক অফিসার জাল্লাদকে নির্দেশ দিলেন ফাসি কার্যকর করতে । অভিনব কায়দায় তৈরি ফাঁসির মঞ্চে একটি চাকা ঘুরাল জ্ল্লাদ । হঠাৎ পায়ের নিচের থেকে সরে গেল কাঠ । শূন্যের উপর ফাসিতে ঝুলে রইলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মুজাহিদ ওমর মুখতার। | বিশ হাজার মানুষ আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে বিশাল ময়দান কেঁপে উঠলো । ইতালী সৈন্যদের অন্তরে ভয়ের সঞ্চার ঘটলো। তাদের আচরণে সেই ভয়ের স্পষ্ট ফুটে উঠলে! । ডাক্তার পরীক্ষা করে রিপাের্ট দিলেন ওমর মুখতার এখনো মরেনি পুনরায় তাকে ফাঁসি দেয়া হলো । জনতার মধ্যে ততক্ষনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে আকাশ বাতাস কেঁপে উঠছে। তাদের সামাল দিতে কয়েক হাজার ইতালী সৈন্যের বেগ পেতে হচ্ছে। সেই সাথে তাদের চেহারায় ও ফুটে উঠেছে ভয়ের ছাপ । সবকিছু দ্রুত করার চেষ্টা করছে তারা।ডাক্তার পরীক্ষা করে এবার তাঁকে মৃত ঘোষণ করলেন। সাথে সাথে ফাসিকাষ্ঠে হতে ওমর, মুখতাবের পবিত্র দেহ নামিয়ে নেয়া হলো । ঝটপট পাশে রাখা একটি খালি ট্রাকে উঠানো হলো । স্রোতের ন্যায় জনতা চারদিক থেকে এগিয়ে আসছে। সামরিক অফিসারাও ঝটপট গাড়িতে উঠে বসলাে । গাড়ি ছেড়ে দিল । জনতাকে সামাল দিতে দিতে সৈন্যরাও এক এক করে গাড়িতে উঠে বসলাে।
খালি ফাঁসির মঞ্চে পড়ে রইল । আর নিথর দাড়িয়ে রইল বিশ হাজার বেদনা বিধুর নিরীহ মানুষ। তাদের মুখে ভষা নেই । চোখের অশ্র শুকিয়ে গেছে। তারা স্বচক্ষে দেখলেও বিশ্বাস করতে পারছে যে, তাদের প্রাণাধিক প্রিয় নেতা ওমর মুখতার আর নেই। তাদের বিশ্বাস ওমল মুখতাব মতে পারে না। ওমর মুখতার প্রতিটি লিবিয়ার জনগণের অন্তরে উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম জীবিত। মাঠ তখন অনেক খালি হয়ে এসেছে । শাতিলার কোল থেকে আব্দুল্লাহ জোর করে নেমে পড়লো, তারপর এক ফাঁকে ফাঁসির মঞ্চে উঠে পড়ল। ফাসিকাষ্ঠে দোল খাওয়া অবস্থায় আস্তিন হতে তাঁর প্রিয় চশমাটি পড়ে গিয়েছিল । আব্দুল্লাহ সেই চশমা উঠিয়ে নিল । শাতিলা দৌড়ে এসে আদুল্লাহকে বুকে জড়িয়ে ধরলাে। আব্দুল্লাহ চশমাটি চোখে পরলো ।
:দেখতো মাম্মা! আমাকে ওমর মুখতারের মত লাগছে না?
:হা বাবা তোকে ওমর মুখতারের মত দেখাচ্ছে। তুই এ যুগের ওমর মুখতার….
এই উপন্যাসটি আমার জীবনের প্রথম পড়া উপন্যাস। ষষ্ঠ বা সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় উপন্যাসটি পড়েছিলাম। “মরুসিংহ” উপন্যাসটি শেষ অংশটুকু পড়ার সময় অনেক কেঁদেছিলাম । উপন্যাসটি মূল থিমটি ভুলে লাগিয়েছিলাম কিন্তু শেষ অংশটুকু আমি কখনো ভুলতেপারিনি। অনেকদিন পর উপন্যাসটি খুঁজে পেয়েছি এবং পিডিএফ করেছি। আপনারা চাইলে পড়তে পারেন।
:হা বাবা তোকে ওমর মুখতারের মত দেখাচ্ছে। তুই এ যুগের ওমর মুখতার….
এই উপন্যাসটি আমার জীবনের প্রথম পড়া উপন্যাস। ষষ্ঠ বা সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় উপন্যাসটি পড়েছিলাম। “মরুসিংহ” উপন্যাসটি শেষ অংশটুকু পড়ার সময় অনেক কেঁদেছিলাম । উপন্যাসটি মূল থিমটি ভুলে লাগিয়েছিলাম কিন্তু শেষ অংশটুকু আমি কখনো ভুলতেপারিনি। অনেকদিন পর উপন্যাসটি খুঁজে পেয়েছি এবং পিডিএফ করেছি। আপনারা চাইলে পড়তে পারেন।
0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন