দ্বীনকে জীবনের উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করার মাঝে জীবনের সাফল্য নিহিত

ইসলামপন্থী ও অনুগত নাগরিক : আমার দৃষ্টিভঙ্গি

পন্থা মানে কি? সহজ ভাষায় Way- পথ-পদ্ধতি, রীতিনীতি। কোনো কাজ সমাধানের জন্য যে পথ অনুসরণ করা হয় তাকেই পন্থা বলে।

পন্থী মানে কি? পন্থার অনুসারীকেই পন্থী বলে।
পন্থা অর্থ যদি পথ বা পদ্ধতি হয় তাহলে এই পথ এর অর্থ কি?
পথ বিভিন্ন রকম হতে পারে। যেমন নদী পাড়ি দেয়ার জন্য কেউ 'নৌকা' ব্যবহার করবেন অথবা কেউ পাড়ি দেয়ার জন্য সাতার'রের পথ বেছে নিবেন। That is up to him.
মূলত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্যই পন্থার ব্যবহার করতে হয়। এখন মূল বিবেচ্য হলো, কার কি উদ্দেশ্য। যেমন, বামপন্থীদের উদ্দেশ্যে তাদের নির্ধারিত এজেন্ডা বাস্তবায়ন, নাস্তিকদের উদ্দেশ্য তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন। ফরাসি বিপ্লবের উদ্দেশ্যে ছিল বিপ্লবের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন।
ঠিক তেমনিভাবে ইসলামের কিছু উদ্দেশ্য আছে। সেই উদ্দেশ্য প্রতিষ্টা করার জন্যও আমাদের কিছু 'পথ' বেছে নিতে হয়। সুন্নাত শব্দের অর্থ হলো- চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। কুরআনে বলা হয়েছে, তুমি আমাদের সোজা পথ দেখাও। সুতরাং ইসলামের কাজ করার জন্য যে পথ ও পদ্ধতি গ্রহণ করা হয় তাকে বলে ইসলামেরপন্থা বা ইসলামপন্থা। আর যিনি এই পন্থার অনুসরণ করেন তাকেই বলে এই পথের পথিক বা ইসলামপন্থী।
তাহলে সোজাসাপটা বললে দাঁড়ায় ইসলামপন্থী মানে হলো নবীর সুন্নাত, কর্মনীতি অনুসরণ করার মধ্যে দিয়ে, আল্লাহর দেখানো পথে পরিচালিত করার যে বাস্তব কর্মসূচি তাকে।এখন দেখার বিষয় ইসলাম আমাদের জন্য কেমন পথ? এটাকি সার্বিক পথ নাকি আংশিক পথ? কেউ ইসলাম পুরোপুরি মানলে তাকে ইসলামপন্থী বলবো নাকি আংশিক মানলে ইসলামপন্থী বলবো? খন্ড খন্ড ইসলাম মানার মধ্যে দিয়ে কি তিনি ইসলামপন্থী হতে পারবেন? বনী ঈসরাইলের ৮০ নং আয়াত দেখলে আমরা কয়েকটা তামাদ্দুনিক বিষয় দেখতে পাই। এক. আল্লাহ সত্যের সাথে আমাকে বের করুন। দুই. সত্যের সাথে আমাকে নিয়ে যাও। তিন. শক্তিশালী রাষ্ট্র দান করো।
সহজ ভাষায় এই হলো, ইসলামের পথ। সত্যের সহিত একটি ইসলামী তামাদ্দুনিক রাষ্ট্র দান করুন যেখানে আমি আমার উম্মতদের তোমার বিধান অনুযায়ী হেদায়েতের পথে পরিচালিত করবো। তার মানে দাওয়াত তাবলীগ, হাদীস দারস, মাসয়ালা মাসায়েল ও তাফসীর, ফিকহ সহ রাষ্ট্রীয় তামাদ্দুনিক ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা।রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতি, সভ্যতা ও তামাদ্দুনিক ব্যবস্থা মূলত নবীদের মৌলিক উদ্দেশ্যে। কেননা উক্ত আয়াতে মূল কথা বলা হয়েছে, আমাকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রদান করুন।
মোটাদাগে এই হলো কোনো পন্থার বা পন্থী'র মূল কাজ। তাহলে ইসলামের মৌলিক এই কাজ বাদ দিয়ে কোনো আলেম, শায়খ কিংবা ফেইসবুক সেলিব্রিটি, বই লেখক কিভাবে 'ইসলামপন্থী' হয়ে যান?তিনি বড়জোর হতে পারেন যেকোনো রাষ্ট্রের অনুগত একজন নাগরিক। যে রাষ্ট্র ফাসেক হলেও তাকে গ্রহণ করে নেবে, দূর্নীতিবাজরাও গ্রহণ করে নিবে। তিনি অত্যাচারীদের জন্য হুমকী হবেন না, অত্যাচারী শাসকরাও তার জন্য হুমকী হবেনা।
নাগরিক বলা হয় তাকেই যিনি ইসলামের মিশন ও পন্থা নিয়ে কাজ করা ছাড়া, নিজে সেই দেশের সব বৈধ অবৈধ আইন মেনে নিয়া বাস করেন। একইসাথে যারা সেই রাষ্ট্রের অবৈধ ব্যবস্থাকে উচ্ছেদ করে সৎ লোকের শাসন ও আল্লাহর আইন জারি করতে চায়না, এবং এই অনুযায়ীই কাজও করেনা তাকেও সাধারণ নাগরিক বলা হয়।
Share:

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন