দ্বীনকে জীবনের উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করার মাঝে জীবনের সাফল্য নিহিত

আত্মশুদ্ধির ইসলামী পদ্ধতি - সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী

 


ইসলাম ব্যক্তিসত্তার উন্নয়ন ও ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণতার প্রত্যাশী । ইসলাম ব্যক্তির উদ্দেশ্যে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেছে ।  আল্লাহর আনুগত্যের প্রতি মানুষকে আহ্বান জানিয়েছে । অধিকার ও দায়িত্ব কর্তব্যের বোঝা ব্যক্তির পিঠে চাপিয়ে দিয়েছে । আদেশ নিষেধের বিধান করা হয়েছে ব্যক্তিকে । আনুগত্য করলে ব্যক্তিকে তার পুরস্কার প্রদানের আশা দেয়া হয়েছে আবার নাফরমানি পাপ কাজে লিপ্ত হলে ব্যক্তিকেই দেওয়া হয়েছে শাস্তির হুমকি ।  চিন্তা ও কর্ম ব্যবস্থায় এমন একটি মূর্তি স্থান অধিকার করেছে, শুরুতে কর্মসম্পাদনকারী এবং শেষ কর্মফল ভোগ কারী হিসেবে মৌলিক গুরুত্বের অধিকারী । তার বুদ্ধিবৃত্তি ও আবেগের কাছে আবেদন জানানো হয় ।  তাকে হেদায়েত ও সঠিক পথ নির্দেশ দান করা হয় । তারই কল্যাণ কামনা করা হয় এবং তাকেই ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করা হয় । 


ব্যক্তি যদি তার নিজের পরিমণ্ডলে অসম্পূর্ণ থেকে যায় এবং নিজের ব্যক্তিসত্তার অধঃপতনের গভীর গর্তে নিক্ষেপ করে তাহলে যে সমাজ ও ব্যবস্থার সাথে সে দুনিয়ার সম্পর্কিত ছিল তাদের কোন প্রকার শ্রেষ্ঠত্ব, গুণপনা ও উন্নত কর্মধারা চূড়ান্ত ফয়সালা ক্ষেত্রে তার কোনো উপকার করতে পারবে না ।


বরং যদি সে ভালো সমাজ ও  সমাজ ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত থেকেও নিজের ব্যক্তিসত্তার পরিপূর্ণতা ও ব্যক্তির উন্নয়নের সহজ সুযোগগুলো কাজে লাগাতে সক্ষম না হয়ে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে এটি আরেকটি শক্তিশালী প্রমাণ রূপে গণ্য করা হবে  এবং তাকে অধিকতর ক্ষতির সম্মুখীন করবে ।  বিপরীত পক্ষে নিজের প্রচেষ্টার মাধ্যমে সে যদি সম্ভাব্য পরিপূর্ণতায় পৌঁছাতে পারতো এবং নিজের ব্যক্তিত্বের সম্ভাব্য উন্নততর বিকাশ সাধনে সক্ষম হতো তাহলে সমাজ ব্যবস্থার ত্রুটি ও তার সাফল্য ও ও মুক্তির পথে বাধা সৃষ্টি করতে সক্ষম হতো । বরং এটি কার জন্য একটি প্রমাণ হিসেবে গণ্য হতো কারণ একটি প্রতিকূল পরিবেশ ও পরিস্থিতির জন্য অবস্থান করেও সে এহেন সফল প্রচেষ্টা চালাতে সক্ষম হয়েছিল। সূরা আল মায়েদা নিম্নোক্ত আয়াতটির মধ্যে বক্তব্যেরই শ্রুত হয়ঃ


عَلَيْكُمْ أَنفُسَكُمْ ۖ لَا يَضُرُّكُم مَّن ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ


নিজেদের হেফাজত করা তোমাদের অপরিহার্য কর্তব্য তোমরা যখন সঠিক পথে থাকবে তখন কেউ পথ ভ্রষ্ট হলে তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবেনা। (সূরা আল মায়েদা 104)


আবার নিম্নোক্ত আয়াতটির মধ্যে এর সম্পূর্ণ বিপরীত হয়ে উঠেছেঃ 


'তোমরা নিজেরা যখন পথভ্রষ্ট হয়েছে তখন অন্যের  সঠিক পথ লাভ তোমাদের জন্য লাভজনক হবে না ।‘ 

--- 

পুরো বইটি পড়ুন ঃ

direct download link

Google Drive 1: Link

Google Drive 2:Link

DropBox: Link

Zippyshare: Link

Mediafire: Link

Slideshare: Link


বইঃ আত্মশুদ্ধির ইসলামী পদ্ধতি

লেখকঃ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী

পৃষ্ঠাঃ ৪৭


Share:

মরহুম মাওলানা আবুল কালাম মুহাম্মদ ইউসুফ

 

-বুদ্ধিদীপ্ত এক বিচক্ষণ ব্যক্তি
মরহুম মাওলানা আবুল কালাম মুহাম্মদ ইউসুফ 

উপমহাদেশের প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন, অসংখ্য আলেম-ওলামার রুহানী উস্তাদ, সাবেক মন্ত্রী, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, বহু গ্রন্ত প্রণেতা মাওলানা আবুল কালাম মুহাম্মদ ইউসুফ (র.)। আল্লাহর দ্বীনের এই একনিষ্ঠ দা’য়ী দেশে-বিদেশে দ্বীনের দাওয়াত প্রচার-প্রসারে ইতিহাসে ভূমিকা পালন করেছেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন অসংখ্য মসজিদ, মাদরাসা ও সামাজিক সংগঠন। চাষীদের জন্য কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের তিনি ছিলেন অন্যতম। সামাজিক অনাচার, দূরাচার মুক্ত করতে তিনি আমৃত্যু ভূমিকা পালন করেছেন।  
Share:

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউসুফ আলী রাহিমাহুল্লাহ

 

একজন নীরব, নিরলস, নিরহংকার ও নির্লোভ এবং নিবেদিত প্রাণ নেতা

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউসুফ আলী রাহিমাহুল্লাহ

২০০৫ সাল থেকে ২৯ বছর আগে কেন্দ্রিয় ইউনিটে তদানীন্তন আমীরে জামায়াত মাওলানা আবদুর রহীম ও সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আবুল কালাম মুহাম্মদ ইউসুফসহ আমরা ৮ জন রুকন ছিলাম। অন্যরা হলেন জনাব আবদুল খালেক, জনাব বদরে আলম, মাষ্টার শফিকুল্লাহ, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউসুফ আলী, জনাব আমিনুর রহমান মঞ্জু ও আমি মাযহারুল ইসলাম। (উল্লেখ্য, কেন্দ্রিয় ইউনিটের রুকন সংখ্যা বর্তমানে ৯৬ জন, এর মধ্যে মহিলা ১৩ জন)। প্রথম থেকেই অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউসুফ আলী কেন্দ্রিয় দায়িত্বশীলদের মধ্যে ছিলেন একজন। ’৮৩ সাল পর্যন্ত তিনি জয়েন্ট সেক্রেটারী এবং ’৮৪ সাল থেকে অন্যতম সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল হিসেবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, প্রকাশনা বিভাগ, সফর সূচি প্রণয়ন, কেন্দ্রিয় অফিস বিভাগ সহ বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রিয় দায়িত্ব ছিল তার উপর। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অত্যন্ত সফলভাবে নিরবে তার দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে গেছেন। সাংগঠনিক সিদ্ধান্তক্রমে আমাকে (গ্রন্থকারকে) কেন্দ্রিয় দফতর সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। আর সেই সুবাদে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউসুফ আলী সাহেবের সাথে আমার নিত্য দিনের নিবিড় সাংগঠনিক ও দাপ্তরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে যা মরহুমের মৃত্যু পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

Share:

মুহাম্মদ মুরসি : ইতিহাসের মহানায়ক

 মুহাম্মদ মুরসি : ইতিহাসের মহানায়ক




পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতায় অনন্য নাম মুহাম্মদ মুরসি। মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি তিনি। রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকেই কারাবরণ করেছেন। একাকী সেলে বন্দী থেকে প্রতারক বিচারকদের সামনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেও মাথা নত করেননি। পৃথিবীর মানুষের কাছে সততার নজির পেশ করে গেছেন। ড. মুরসির জীবনচিত্রকে কবি ফররুখ আহমদের ভাষায় বলা যায় ‘জীবনের চেয়ে দৃপ্ত মৃত্যু তখনি জানি, শহীদি রক্তে হেসে ওঠে যবে জিন্দেগানী।’ জন্ম থেকে শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের উদ্দীপ্ত সময়ের প্রতিটি বাঁকে তিনি একজন খাঁটি মুসলিম হিসেবে ইকামতে দ্বীনের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। মিথ্যার মায়াজাল কখনোই তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত না করে জীবন বিলিয়ে দেয়ার মাঝেই সার্থকতা খুঁজে পেয়েছেন তিনি। তাইতো তিনি মৃত্যুবরণ করেও বিশ্বের মুসলমানদের কাছে ইতিহাসের মহানায়ক হিসেবে সমাদৃত।
Share:

শায়খ আব্বাসি মাদানী রহ:নির্বাসিত মুজাহিদ

 শায়খ আব্বাসি মাদানী রহ:নির্বাসিত মুজাহিদ



আলজেরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বে Biskra রাজ্যের নিকটবর্তী সিদি উকবা শহরে ১৯৩১ সালে রক্ষণশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আব্বাসী মাদানী । তার পিতার নাম শেখ আবু-আল কাসিম। আবু-আল কাসিম একজন মসজিদের ঈমাম এবং শিক্ষক ছিলেন। শৈশবে তিনি তার পিতার কাছে দ্বীন শিক্ষা করেন। ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত শেখ নাইম আল-নাইমির আধীনে পড়াশুনা করেন।তারপর অ্যাসোসিয়েশন অফ স্কলার্স স্কুলে পড়াশুনা করেন এবং কলেজ অফ দ্যা ইডুকেশন থেকে স্নাতক হন,এ সময় তিনি ফরাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন।
১৯৫৪ সালের নভেম্বরের প্রথম দিকে ২৩ বছর বয়সে ফরাসী উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে মুক্তি বিপ্লবের প্রথম দিন থেকেই আন্দোলনে যোগ দেন। বিপ্লব শুরুর 20 দিন পর তিনি গ্রেপ্তার হন এবং স্বাধীনতা অর্জনের পরে তিনি ১৯৬২ সালে মুক্তি পান । মুক্তির পর তিনি দর্শনে বিএ পাস করেন, তারপরে পিএইচডি ডিগ্রি পড়াশোনা চালিয়ে যান। ১৯৭৫ সালে লন্ডন থেকে দর্শনে ডক্টরেট অর্জন করেন । এর পর তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং ইউনিভার্সিটি অফ আলজেরিয়াতে অধ্যাপক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন । পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও যোগদান করেন ,তিনি ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট(FLN) একজন সদস্য ছিলেন । যেখানে তিনি ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট পক্ষে পিপল'স অ্যাসেম্বলি অফ উইলিয়ায় অ্যাসেমব্লিতে আলজিয়ার্সের গভর্নর-এর ডেপুটি হিসাবে নির্বাচিত হন ।
আশির দশকের গোড়ার দিকে, আব্বাস মাদানী আলি বিন হজের সাথে পরিচিত হন এবং একজন ফুল টাইম দায়ী হিসাবে কাজ শুরু করেন । ১৯৮২ সালের ১২ নভেম্বরে তিনি আলজেরিয়ার একদল আলেমকে সঙ্গে নিয়ে, তাদের মধ্যে রয়েছে: শেখ আহমদ সাহনুন এবং শেখ আবদেল লতিফ সুলতানি সহ আরো আনেকে । তারা আলজেরিয়ায় ইসলামিক আইন প্রয়োগের দাবিতে জানান এবং ইসলামী অর্থনীতি শিক্ষা প্রতিষ্টানে ফ্রি মিক্সিং ,দুর্নীতি,আটককৃতদের মুক্তি দাবি ,রাষ্ট্র যন্ত্রে ইসলামের শত্রুদের ব্যাপক উপস্থিতি নিন্দা জানান। আর এ করনে তাকে গ্রেপ্তার করে হয় । সবথেকে মজার বিষয় , ১৯৫৪ সালের বিপ্লবের সময় রেডিও ভবনগুলিতে তার নেতৃত্বে আক্রমণের চেষ্টা করার আভিযোগে সরকার তাকে গ্রেপ্তার করে।
১৯৮৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারিতে শেখ আব্বাসী মাদানী (রহ:) এবং ক্যারিশম্যাটিক তরুণ নেতা আলী বেলহাদজের নেতৃত্বে ইসলামী স্যালভেশন ফ্রন্ট জন্ম হয় । আলজিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং প্রাক্তন স্বাধীনতা যোদ্ধা আব্বাসি মাদানী তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী ধর্মীয় রক্ষণশীলতার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন এবং তিনি ইসলামি শরিয়া প্রতিষ্ঠাকে মূল লক্ষ্য এবং এটাকে তিনি ২য় স্বাধীনতা যোদ্ধের সাথে তুলনা করেন।

1991 সালের স্বাধীনতার পর প্রথম জেনারেল ও প্রেসিডেনশিয়াল নির্বাচনে ২৩১ টা সিটের মধ্যে পায় 188 টা সিট৷ দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে FLN জয়ী হলেও সুপ্রিম সিকিউরিটি কাউন্সিলের হস্তক্ষেপে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত ঘোষণা করা হয় ৷ প্রেসিডেন্ট চাদলি বিন জাদিদকে কে সরিয়ে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে ৷ তার ফলাফল বাতিল করার পরে মাদানী সব লড়াইয়ের ডাক দেয়. ১৯৯১ সালের ৩০ শে জুন মাদানীকে আবারও কারাগারে বন্দী করা হয় ,রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার হুমকির অভিযোগে। সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে 12 বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয় ।১৯৯৩ সালের জানুয়ারিতে এফআইএস নিষিদ্ধ করা হয়, যা একটি গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত করে যা বছরের পর বছর ধরে । সেনাবাহিনী এবং ইসলামপন্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েক হাজার আলজেরীয় মারা যায় ( সংখ্যা প্রায় 250,000 কাছাকাছি সূত্র: উইকিপিডিয়া ) । অনেকে পাহাড়ে গিয়ে গেরিলা দল তৈরি করে৷ যার নেতৃত্ব দেয় অফগান ফেরত মুজাহিদরা৷ ১৯৯৪ সালে জন্ম হয় ইসলামীক সালভেশন আর্মির৷ এরপর কাহিনী ব্যাপক যা এখানে বর্ণনা করা সম্ভব না ৷
যাহোক,১৯৯৭ সালে ইসলামিক স্যালভেশন আর্মির ও সরকারের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পরে মাদানীকে কারাগার থেকে মুক্তি পান কিন্তু গৃহবন্দী করে রখা হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পরে চিকিৎসা জন্য দোহার যান এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সেখানেই থেকে যান । ২৪ শে এপ্রিল ২০১৯ সালের ৮৮ বছর বয়সে আব্বাসি মাদানী ইন্তেকাল করেন।
@Abdul Wahab
Share:

ইখওয়ানুল মুসলিমীন সিরিয়া, একটি ব্যর্থ বিদ্রোহ অতঃপর.

 ইখওয়ানুল মুসলিমীন সিরিয়া, একটি ব্যর্থ বিদ্রোহ অতঃপর.

সময়টা ১৯৬৩ সাল ,বাথ পার্টি সামরিক অভ্যুত্থান এর মাধ্যমে সিরিয়ার ক্ষমতা দখল করে এবং জরুরি অবস্থা জারি করে । ১৯৪৫ সালে জন্মের পর সিরিয়ার মুসলিম ব্রাদারহুড তখন প্রধান রাজনৈতিক দল হয়ে উঠেছে । ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলি এবং মার্ক্সবাদীদের সরকার তীব্র বিরোধিতা করে । শুরু হয় ধর্মঘট ও গণ- বিক্ষোভ, ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে । আস্তে আস্তে আন্দোলন আরও জোরালো হতে থাকে । প্রধান শহরগুলি, বিশেষত হামায় সেনাবাহিনী কর্তৃক প্রচুর ধ্বংসযজ্ঞ চালায় । ১৯৬৪ সালের মাঝামঝিতে রাস্তাঘাট অবরোধ,ধর্মঘট ও গণ- বিক্ষোভ আরো তীব্র হয় । বিদ্রোহীরা বাথ পার্টির সদশ্যদের উপর আক্রমণ করেতে থাকে । একজন ইসমাইলি বাথী সৈন্য নিহত হওয়ার পরে দাঙ্গা তীব্র হয় । বিদ্রোহ দমন করতে সেনাবাহিনী ট্যাঙ্ক পর্যন্ত ব্যবহার করে। মুসলিম ব্রাদারহুডের 70-100 জন সদস্য মারা যায় আরও অনেককে আহত বা বন্দী করা হয় আনেকে আন্ডারগ্রাউ আবস্ত নিখোঁজ হয়ে যায় । এ আন্দোলন কিছু টা স্তমিত হলেও থেমে যায়নি ,এ আন্দোলন ধীরে ধীরে সশস্ত্র রুপ নিতে থাকে । ১৯৭০ এর শেষের দিকে হাফিজ আল আসাদ ক্ষমতা দখল করে । সুন্নি ইসলামপন্থীরা সিরিয়ায় বাথ সরকারের বিরুদ্ধে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত যে আন্দোলন করে ছিল তাকে "লং ক্যাম্পেইন অফ টেরর' হিসাবে আবহিত করা হয় ।


1979 সালে ব্রাদারহুড সরকারী কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে দেশের একাধিক শহরে গেরিলা আক্রমণ করে । ফলস্বরূপ সরকারের দমন- নির্যাতন , গণ-গ্রেপ্তার ব্যাপক হারে বাড়িয়ে দেয়। ১৯৮০ সালের শুরুতে সিরিয়ার প্রায় সব শহরই ধর্মঘট ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে , শহর রক্ষা বাহিনীর সাথে রিতিমত লড়াই শুরু হয়ে যায় । মুসলিম ব্রাদারহুড এবং অন্যান্য বিভিন্ন ইসলামপন্থী দলগুলো সরকারী কর্মকর্তাদের উপর হামলা,সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় বোমা হামলা চালায় । ২৬ শে জুন, ১৯৮০ সালে রাষ্ট্রপতি হাফেজ আল-আসাদকে হত্যার প্রচেষ্টা । মালি রাষ্ট্রপতির জন্য সরকারী সংবর্ধনায় তার উপর আক্রমণ করা হয় । কেবলমাত্র হালকা আঘাত প্রাপ্ত হন কিন্তু বেঁচে যান । হাফিজ আল-আসাদের প্রতিশোধ ছিল দ্রুত এবং নির্দয়: মাত্র কয়েক ঘন্টা পরে তাদমোর কারাগারে বহু সংখ্যক ইসলামপন্থী বন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ।

১৯৮০ সালের জুলাইয়ে, ইমার্জেন্সি ল 49-এর অনুমোদনের ফলে মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্যপদকে মৃত্যদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসাবে আইন পাস করা হয় । আগস্টে ইসলামপন্থীদের আলেপ্পোতে অবস্থানরত সেনাদের উপর হামলার জবাবে ৮০ জনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে। 1981 সালের এপ্রিলে সেনাবাহিনী হামার প্রায় 400 জন বাসিন্দার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।

সিরিয়ার হামা শহরটি ইখয়ানীদের শক্তিশলী একটি ঘাটি । ১৯৮২ সালে বেশ কয়েকটি জায়গায় সরকারী বাহিনী এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের ইসলামপন্থীরাদের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে । যার প্রেক্ষিতে হাফিজ আল-আসাদ হামায় ১২০০০ সৈন্য প্রেরণ করে । সাথে রিফাত আল-আসাদের বিশেষ বাহিনী, অভিজাত সেনা ইউনিট এবং মুখভারত এজেন্টরা শহরে আসে । হামলার আগে সামরিক বাহিনীক শহরবাসীকে আত্মসমর্পণের আহবান জানায় এবং সতর্ক করে যে এই শহরে কেউ রয়ে গেলে তাকে বিদ্রোহী বলে বিবেচনা করা হবে। ৯৮২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রাত দুটো থেকে শুরু হয় আপারেশন ।

আর এদিকে ইখওয়ানীরা সরকারী কর্মকর্তা এবং বাথ পার্টির নেতাদের বাড়িতে আক্রমণ করে , পুলিশ চৌকিতে আক্রমণ করে এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেয় । 3 ফেব্রুয়ারির সকালে মধ্যে প্রায় 70 জন শীর্ষ বাথীকে ঝুলিয়ে দেয় ইখওয়ানীরা এবং হামাকে একটি "মুক্ত শহর" হিসাবে ঘোষণা করে।

হামার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সেনাবাহিনীর প্রায় ৩ সপ্তাহ লেগেছিল । অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, সিরিয়ার সেনাবাহিনী সরু রাস্তাগুলি দিয়ে পদাতিক , আর্টিলারি ও ট্যাঙ্ক নিয়ে যাওয়ার জন্য এয়ার ্ট্রাইক করে । লড়াইয়ের প্রথম চার দিনের মধ্যে ভবনগুলি ধংস হয়ে যায়। পুরানো শহরের বড় অংশ ধ্বংস করা হয়ে যায় । সরকারী বাহিনীর উপর হাইড্রোজেন সায়ানাইড ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে । শহরের ভেতর লুকিয়ে থাকা ইখওয়ানীদের প্রত্যেককে খুজে খুজে হত্যা করে ।

হামা শহর শহরতলীতে সৈন্যরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল ঘোষণা করেছিল,আপনারা সবাই রাস্তায় নেমে আসুন । কিছু লোক বেরিয়ে আসে । অফিসার তাদের বলে , আমাদের উপর ভরসা করুন , আপনারা
নিরাপদ বাড়ীর সবায়কে নিয়ে আসুন। সৈন্যরা বাড়িতে বাড়িতে অভিযান চালায় এবং সেখানে অবস্থানকৃত সবায়কে বাইরে নিয়ে আসে । তদের দ্বারাই বড় একটি খাদ খনন করানো হয় । এরপর শুরু হয় হত্যাযজ্ঞ প্রায় ১৫০০ লোককে গুলি করে হত্যা করে খাদে ফেলে দেয় ।

এ আসম যুদ্ধে ১০০০ জন সৈন্য নিহত হয় ৩৮,০০০ মানুষ মানুষ মারা যায় । রাষ্ট্রপতির ভাই রিফাত আল-আসাদ ৩৮,০০০ মানুষকে হত্যা করার বিষয়ে গর্ব করতেন। সাংবাদিক সুবহি হাদিদি লিখেছিলেন যে , জেনারেল আলী হায়দারের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী 27 দিনের অবরোধে ভারী কামান এবং ট্যাঙ্ক দিয়ে আক্রমণ করে প্রায় ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ মানুষকে হত্যা করা হয় । 15,000 জনের আজ অবধি খোজ পাওয়া যায় নি এবং 100,000 জনকে বহিষ্কার করা হয় ।

হামার পরাজয় ইখওয়ানুল মুসলিমীনকে সিরিয়ার রাজনীতি থেকে কার্যত অদৃশ্য করে দেয় ৷ কেউ কেউ আত্মসমর্পণ করে অথবা আত্মগোপনে চলে যায় ৷ দলের বেশিরভাগ সদস্যই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় জর্ডান এবং ইরাকে, তুরস্ক, সিরিয়া, আরব রাষ্ট্র সমূহে । তারপরেও নুসায়েরীরা কি ইসলামী আন্দোলনকে ঠেকাতে পারেছিল ৷ না তারা তা পারেনি! ইখওয়ানুল মুসলিমীন হয়তো প্রকাশ্যে আসতে পারেনি ঠিকই কিন্তুু অপ্রকাশ্য ভাবে তারা তাদের কাজ ঠিকই চালিয়ে গেছে ৷ বলা হয়ে থাকে যে ২০১১ সালের সিরিয়ায় আরব বসন্তের মূল কারিগর ছিল ইখওয়ানুল মুসলিমীন ৷ 
@Abdul Wahab
Share:

আমি শহীদ হতে চাই না-ড. আহমাদ তুতুনজি

ড. আহমাদ তুতুনজি  এর বক্তব্যের  সারমর্মঃ


"আমি শহীদ হতে চাই না, নিশ্চয়ই তোমরা অবাক হয়ে যাচ্ছো আমার কথা শুনে। আমার সবাই যদি শহীদ হয়ে যায় তাহলে কাজ করবে কে। মুসলিম উম্মাহ কে দেয়ার আনেক কিছু বাকি আছে । শাহাদাত আল্লাহর হাতে, কাকে তিনি এটা দিবেন সেটা তার ইখতিয়ার। আল্লাহ  বলেন,

كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ 

তোমরাই সবচেয়ে উত্তম জাতি। সর্বোত্তম উম্মত,সর্বোত্তম দল৷ তোমাদের কর্মক্ষেত্রে আনা হয়েছে মানুষের হিদায়াত ও সংস্কার সাধনের জন্য ৷ (ইমরান-১১০) । এটা এমন একটা আয়াত যেখানে আল্লাহ তায়ালা সুন্দর ভাবে বলেছেন আমাদের অবস্থান বর্ণনা করেছেন।মুসলিমরাই হচ্ছে সর্বোত্তম জাতি,যেটা নিয়ে আমাদের আলোচনা করা উচিত ৷তুমি হচ্ছ সর্বোত্ত গোটা মানব জাতির মধ্যে৷এটাই আল্লাহ তায়ালা বলেছেন তুমি হতে পার বাঙ্গালী,আরব,দেখতে সাদা,দেখতে বাদামী,দেখতে সবুজ,দেখতে কালো যেমনই হও না কেন তুমিই সর্বোশ্রেষ্ট।

Share:

শায়খ আহমাদ ইয়াসিন রহ:

ইসলামি রেনেসাঁর অগ্রপথিকগণঃ



১৯৩৬ সালের জানুয়ারি মাসে আসকালান শহর থেকে ২০ কি. মি দূরে জুরাহ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিল আব্দুল্লাহ ইয়াসিন এবং মাতার নাম সা'দা আল হাবেল। তিন বছর বয়সে তার পিতা মৃত্যু বরণ করেন। তারা চার ভাই এবং দুই বোন্। ১৯৪৮ সালে তাদের গ্রাম ইসরায়েলের দখলে চলে গেলে দশ বছরের বালক আহমেদের জায়গা হয় গাজার আল শাতিঈ শরণার্থী শিবিরে। শরণার্থী জীবনের দু’বছরের মাথায় যখন তার বয়স মাত্র বারো, বন্ধু আব্দুল্লাহর সঙ্গে কুস্তি খেলতে গিয়ে মেরুদণ্ডে প্রচণ্ড আঘাত পান। টানা পঁয়তাল্লিশ দিন প্ল্যাস্টার করে রেখেও শেষ রক্ষা হলো না। আহমেদ সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যান। পঙ্গু হয়ে যাবার পরেও তিনি উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য তিনি নিয়ে তৎকালীন ইসলামী জ্ঞানের তীর্থস্থান কায়রোর আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। আর্থিক সংকটের কারণে তিনি গাজায় ফিরে আসেতে বাধ্য হন । শরীরের অবস্থা আরো খারাপের দিকে গেলে গাজায় ফেরত আসেন। ঘরে বসেই তিনি তার শিক্ষা চালিয়ে যান।
Share:

হারিয়ে যাওয়া হায়দ্রাবাদ


হায়দ্রাবাদের আয়তন ছিল 82 হাজার 698 বর্গমাইল । হায়দ্রাবাদ এর উত্তরে ছিল ভারতের মধ্য প্রদেশ ,উত্তর-পশ্চিম ভারতের মহারাষ্ট্র ,দক্ষিণের কৃষ্ণা ,তুঙ্গভদ্রা নদী, পশ্চিমে আহমদনগর, বিজাপুর পূর্বে ছিল তামিলনাড়ু । 1947 সালের 28 সেপ্টম্বর অপারেশন  পলো নামের পুলিশ অ্যাকশন এর আড়ালে ভারতীয় বাহিনী  দখল করে নেয় হায়দ্রাবাদ।1947 সালের 14 ই আগস্ট হায়দ্রাবাদ যখন স্বাধীন হয় তার বহু আগে থেকে শুরু হয-নেহেরু -প্যাটেলদের ষড়যন্ত্র। 1948 জুলাই মাসে নেহেরু স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রীবলেন, "যখন প্রয়োজন মনে করব হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান শুরু করব"৷রাজনীতিবিদ বুদ্ধিবৃত্তিক, সংস্কৃতিক অঙ্গন ,ব্যবসায়ী মহল ও সেনাবাহিনীর মধ্যে অর্থবিত্ত পদক স্কলারশিপ পুরস্কার এর ব্যবস্থা ও পদোন্নয়ন এর মাধ্যমে তারা তৈরি করতে থাকে নিজেদের লোক।এই লোকেরাই দেশপ্রেমের ভান ধরে গণমাধ্যম এর বদৌলতে রাতারাতি এক একজন  স্টারে পরিনত হয়৷ আর যারা সত্যিকারের দেশ প্রেমিক ছিল তাদের বাজে লোক বানিয়ে না-নান কেচ্ছা কাহিনী ছড়িয়ে দেওয়া হয়-আর পেছন দিকে তৈরি হতে থাকে ভারতীয় সামরিক আগ্রাসনের ক্ষেত্র।হায়দ্রাবাদের আত্মপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য হাজার হাজার সংস্কৃতিক সংগঠনের জন্ম দেয় ভারত।এভাবেই এখন বাংলাদেশের ভেতর গজিয়ে উঠেছে নানা ধরনের  বর্ণাঢ্য সংগঠন,  নারী ফাউন্ডেশন।

হায়দ্রাবাদের দুর্ভাগ্য তার জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগই ছিল হিন্দু৷ সাধারন হিন্দু জনতা হয়তো হায়দ্রাবাদের স্বাধীন সার্বভৌম এর প্রতি শ্রোদ্ধাশীল ছিল৷ কিন্তু তাদের যেসব সংগঠন ছিল তার পুরো নেতৃত্বকে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে ছিল ভারতের বিশুদ্ধ দালাল ।এই দালালদের বিষয়ে হায়দ্রাবাদ সরকারের কাছে বিস্তর অভিযোগ ছিল৷ দেশের অভ্যন্তরে নাশকতামূলক কাজ চালানো কিন্তু প্রত্যক্ষ প্রমাণের অভাবে ,গণমাধ্যম এর পূর্ণ সমর্থন ও ভারতীয় চাপের কারণে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয় ভাড়া হায়দ্রাবাদের সরকার।

Share: