"আমি শহীদ হতে চাই না, নিশ্চয়ই তোমরা অবাক হয়ে যাচ্ছো আমার কথা শুনে। আমার সবাই যদি শহীদ হয়ে যায় তাহলে কাজ করবে কে। মুসলিম উম্মাহ কে দেয়ার আনেক কিছু বাকি আছে । শাহাদাত আল্লাহর হাতে, কাকে তিনি এটা দিবেন সেটা তার ইখতিয়ার। আল্লাহ বলেন,
كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ
তোমরাই সবচেয়ে উত্তম জাতি। সর্বোত্তম উম্মত,সর্বোত্তম দল৷ তোমাদের কর্মক্ষেত্রে আনা হয়েছে মানুষের হিদায়াত ও সংস্কার সাধনের জন্য ৷ (ইমরান-১১০) । এটা এমন একটা আয়াত যেখানে আল্লাহ তায়ালা সুন্দর ভাবে বলেছেন আমাদের অবস্থান বর্ণনা করেছেন।মুসলিমরাই হচ্ছে সর্বোত্তম জাতি,যেটা নিয়ে আমাদের আলোচনা করা উচিত ৷তুমি হচ্ছ সর্বোত্ত গোটা মানব জাতির মধ্যে৷এটাই আল্লাহ তায়ালা বলেছেন তুমি হতে পার বাঙ্গালী,আরব,দেখতে সাদা,দেখতে বাদামী,দেখতে সবুজ,দেখতে কালো যেমনই হও না কেন তুমিই সর্বোশ্রেষ্ট।
এ আয়াতে সেই সর্বোত্তম মানুষদের তিনটি গুণ বর্ণনা করা হয়েছে:-
1. Doing Good - তা'মুরুনা বিল মা'রুফ - সৎ কাজের আদেশ ৷
2. Tell the people to avoid doing the wrong - ওয়াতানহাউনা আনিল মুনকার - অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখো৷
3. Believe in Allah and follow his command - ওয়া তু'মিনুনা বিল্লাহ - আল্লাহর উপর ঈমান আনো এবং আল্লাহ তাআলার আদেশ মানো৷
প্রিয় ভায়েরা, কখনো স্বতন্ত্রভাবে দাওয়াতী কাজ করবেন না, আপনাদেরকে অবশ্যই সম্মিলিতভাবে দাওয়াতের কাজ করতে হবে ৷ আমার জীবনের প্রায় 60 টি বছর এই দাওয়াতের কাজে কেটেছে, এটা আমার কাছে দিনের আলোর মত পরিষ্কার ৷ আপনারা অবশ্যই জানেন 1 এর পাশে 1 রাখা হলে হয় = 11 আর যদি এক পাশে 1 এবং আরেক পাশে 1 রাখা হয় তাহলে হয় 2 ৷ এজন্য আমাদেরকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে সর্বাত্মকভাবে একে অপরকে সাহায্য করতে হবে ৷
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সঙ্গে সার্বক্ষণিক কিছু সাহাবী থাকতেন৷ প্রতিদিন তাদের মধ্যে কিছু না কিছু পরিবর্তন আসত ৷ তারা আল্লাহর কুরআন এবং আল্লাহর রাসূলের নির্দেশনাকে ফলো করত ৷ তারা নিজেরাও ইজতেহাদও করত ৷ আমাদেরকে অবশ্যই সে দিকে ফিরে যেতে হবে ৷ আমাদের সেই চেষ্টাই করতে হবে। আমি এখনো সেই কথা মনে করতে পারি যখন ইউএসেতে মসজিদুল হারামের ইমাম আজিজের সঙ্গে আমার দেখা হয় ৷ তিনি ড. খানকে নিয়ে খুব গর্ব করতেন যিনি বহুতল ভবন তৈরি কন্সেপ্টের প্রবক্তা ৷ এটা তিনি সর্বপ্রথম তৈরী করেছিলেন শিকাগোতে ৷ প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমরাও পার। একটি আয়াত যেটা আমি সব জায়গায় বলি ৷ এ আয়াতটি আমাকে ভিষন ভাবে নাড়া দেয়,
وَالَّذِينَ كَفَرُوا بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۚ إِلَّا تَفْعَلُوهُ تَكُن فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ كَبِيرٌ
যারা সত্য অস্বীকার করেছে তারা পরষ্পরের সাহায্য সহযোগীতা করে ৷ যদি তোমরা পরষ্পরের সাহায্য সহযোগীতা না করো তাহলে পৃথিবীতে ফিতনা সৃষ্টি হবে ও বড় বিপর্যয় দেখা দেবে৷ (আনফাল -৭৩) আর এটাই হচ্ছে এখন পুরো পৃথিবী জুড়ে ৷ আমরা একে অপরকে সাহায্য সহযোগিতা করি না ৷ আপনি বর্তমান সময়ে বিশ্বের টিভি,নিউজ পেপার ,জার্নাল,যেখানেই তাকান না দেখবেন,প্রতিদিন একজন মুসলিমই আর একজন মুসলিমকে হত্যা করছে ৷ আর কিছু মুসলিম তো এটা দেখে খুশি ৷ আমরা এটা পরিবর্তন করতে চাই ৷
আমরাই হচ্ছি আউলিয়া উবা‘য়াদ(পরস্পরের সাহায্যকারী) ৷ এটা আল্লাহতালা আমাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা হিসেবে পাঠিয়েছেন ৷ আমরা যদি আমাদের জীবনের দিকে তাকাই তাহলে দেখব যে, আমরা মুসলমানরা 95% এ তে একই রকম আর আমাদের মধ্যে মতভেদ আছে 5% ৷ তারপরও আমরা আমাদের একে অপরকে ঘৃণা করি ৷ আমার প্রিয় ভাইয়েরা,দয়া করে এই আয়াতটা সম্পর্কে একটু ভাবুন ৷ দয়া করে, এই আয়াতটি নিয়ে কিছু কাজ করুন ৷ আমরা যদি এটা নিয়ে কাজ করতে পারি তাহলে অবশ্যই দুনিয়াতে শান্তি নেমে আসবে ৷ আমরা বর্তমান সবাই নৈরাজ্য থেকে মানব সভ্যতাকে বাঁচাতে পারব ৷ এটাই তো আল্লাহ তায়ালা আমাদের হাতে দিয়েছেন ৷ এই আয়াতই সব থেকে বড় প্রমাণ ৷ আর এটি 20 বার কোরআন খতম দিয়ে কখনো সম্ভব না ৷ কোরআনকে আমাদের জীবনের একটি অংশ করে নিতে হবে ৷ ইনশাল্লাহ আমরা এটা পারবো।
1.পশ্চিমারা( পশ্চিমা সভ্যতা) আমাদেরকে ঘৃণা করে ৷ আমরা জানি যে তারা প্রচুর পরিমাণ পরিশ্রম করে ৷ আমাদের অবস্থার পরিবর্তন আনতে হলে আমাদেরকে কিছু কাজ করতে হবে ৷ একজন মুসলিম যদি দিনে আট ঘন্টা কাজ করে তাহলে তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই দশ ঘন্টা করে কাজ করার চেষ্টা করতে হবে ৷এটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, অন্তত আমাদেরকে কাজের পরিমাণ বাড়াতে হবে ৷ জীবনটা খুবই ছোট, এক মিনিট সময় নষ্ট করার পরিস্থিতি আমাদের নেই ৷ Because You are sign by Allah.
2. Excellence (শ্রেষ্ঠত্ব) একজন মুসলিম কখনোই A- পেয়ে সন্তুষ্ট থাকতে পারে না তাকে অবশ্যই চেষ্টা করতে হবে A+ পাওয়ার জন্য । একজন মুসলিমকে সব জায়গায় তার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিতে হবে ৷ এবং সর্বক্ষেত্রে ডিসিপ্লিন বজায় রাখতে হবে ৷ আমাদেরকে কঠোর পরিশ্রমী হতে হবে ৷ সামনের দিকে তাকাতে হবে পেছেনের দিকে নয় ৷ কেউ একজন 40 মাইল বেগে গাড়ি চালাচ্ছে আপনি কখনোই 30 মাইল বেগে গাড়ি চালিয়ে তাকে ধরতে পারবেন না ৷
IIFSO যখন আমরা যখন প্রতিষ্ঠা করি তখন আমরা সিলেবাস হিসাবে 40 টি বই বেছে নিই ৷ যেমন মাওদূদী,কুতুব ইত্যাদি ৷ সিলেবাসের মধ্যে একটি বই হচ্ছে ইসলামিয়াত (ইসলাম পরিচিতি-মাওলানা মাওদূদী রহ) ৷ বইটি প্রায় 85+ ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে ৷ এরকম আল্লাহর দ্বীনের জন্য কিছু করার চিন্তা করুন ৷
3. কখনো এই শব্দ গুলো ভূলবেন না:
সুবহানাল্লাহ,আলহামদুলিল্লাহ ,লাইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার ,ওলাহাওলা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহহিল আলি‘য়ুল আজিম। ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ আমাকে ডাকো আমি তোমাদের দোয়া কবুল করবো ৷ (আল মুমিন -60) وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ আর হে নবী! আমার বান্দা যদি তোমার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তাহলে তাদেরকে বলে দাও , আমি তাদের কাছেই আছি ৷
আমাদের থেকে ভাবা উচিত যে আমরা কিভাবে গোড়ারদিকে ফিরে যেতে পারি ৷ আমাদের উম্মাহর নেগেটিভ দিক গুলোর থাকবে কিন্তু পজিটিভ দিক গুলো চিন্তা করতে হবে ৷ আর এই উম্মাহর উন্নতি আনতে হলে অবশ্যই আমাদেরকে নেগেটিভিটি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে ৷ মুসলিম মাত্র সামনে এগিয়ে যাওয়া ৷ আমরা যদি এভাবে চলতে পারি তাহলে আমরা অবশ্যই আমাদের উম্মার হারানো ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে পারব ৷ প্রিয় ভায়েরা আমার কঠিন সময় পার করছি ৷ ইনশাআল্লাহ আমরা এই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠতে পারব ৷
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
হে আমাদের রব ! আমাদের নিজেদের স্ত্রীদের ও নিজেদের সন্তানদেরকে নয়ন শীতলকারী বানাও এবং "আমাদের করে দাও মুত্তাকীদের ইমাম" ৷
- ড. আহমাদ তুতুনজি এর বক্তব্যের সারমর্ম

0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন