১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পবিত্র শবে কদর রাতে ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য নেয়ামত স্বরূপ আসে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র 'পাকিস্তান'। ১৭৫৭ সালে পলাশীর আম বাগানে জগৎশেঠদের ষড়যন্ত্রে স্বাধীনতা হারানোর পর বাংলার মুসলমানরা ১৯০ বছর ধরে যে স্বাধীনতার বীজ বুনে যাচ্ছিল, তারাই এই পাকিস্তান ছিনিয়ে আনার সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়। বিশ্বের অন্যতম ধনী অঞ্চল বাংলা ব্রিটিশ উপনিবেশকালে অন্যতম গরীব অঞ্চলে পরিণত হয়। ব্রিটিশ উপনিবেশ হওয়ার পাশাপাশি পূর্ব বাংলা পশ্চিম বাংলারও একটি উপনিবেশ হিসেবে বিবেচিত হতে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে শোচনীয় হালত ছিল মুসলমানদের। কিন্তু পাকিস্তান গঠনের পর এই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। তরতর করে শিক্ষা, চাকরি, রাজনীতি, অর্থনীতি সকল ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে থাকে মুসলমানরা। ভারতভাগের সময়কালে হিন্দু-মুসলিম সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে ভারত-পাকিস্তান ভূখণ্ড ভাগাভাগির সাথে সাথে মানুষও ভাগ হয়ে যেতে থাকে। পশ্চিম বাংলা থেকে, বিহার থেকে, অন্যান্য অঞ্চল থেকে যেমন দাঙ্গার শিকার মুসলমানরা এপারে চলে আসেন, এপারেও দাঙ্গার শিকার হয়ে হিন্দুরা ভারতে চলে যেতে থাকে। তবে অবস্থাপন্ন হিন্দুদের পালিয়ে যাওয়ার পিছনে আরেকটি কারণ বিদ্যমান ছিল: ভয়। ভারত রাণীর ছত্রছায়ায় বহু হিন্দু জমিদার, জোতদাররা এ অঞ্চলের মুসলমানদের যে শোষণ ও নিপীড়ন করেন, তার শাস্তির ভয়।
তবে সাতচল্লিশে দেশত্যাগ করে কলকাতায় আশ্রয় নেয়া কালিদাস বৈদ্যরা পাকিস্তানের প্রতি অনাস্থার কারণেই চলে গিয়েছিলেন। হিন্দু অধ্যুষিত দক্ষিণবঙ্গের দাঙ্গা প্রবণ অঞ্চলের সামন্তগাতি গ্রামের ডা. কালিদাস বৈদ্য তখন তরুণ। চোখের পলকে মুসলমানদের উন্নতি, প্রজা থেকে রাজার আসনে উত্থান, অশিক্ষার অন্ধকার থেকে শিক্ষার আলো ছড়াতে দেখে যাদের বুক জ্বলে যেত, তিনি ছিলেন তাদেরই অংশ। ফলে সাতচল্লিশে সপরিবারে কলকাতায় আশ্রয় নিলেও ১৯৫০ সালে তিনি দেশে ফিরে এলেন 'পাকিস্তান ভাঙার ব্রত নিয়ে'। তার সঙ্গী দু’জন; চিত্তরঞ্জন সুতার ও নীরদ মজুমদার। চিত্ত আর নীরদবাবু রাজনীতিতে যুক্ত হলেন। কালিদাস বৈদ্য ভর্তি হলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে বাঙালির স্বপ্নরাজ্য পাকিস্তানকে বিতর্কিত ও অপ্রাসঙ্গিক করে তুলতে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিলেন 'বাঙালি জাতীয়তাবাদ' এর ধোঁয়া। কিন্তু পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতাই শুধু নয়, ভারতভুক্তি অথবা ভারত অনুগত হিন্দু চালিত একটি রাষ্ট্র গড়তেই তারা বাঙালির অন্তরে স্বাধীনতার বীজ বুনতে থাকেন। এসব দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডের বিবরণ নিয়েই রচিত হয়েছে কালিদাস বৈদ্যের বই 'বাঙালির মুক্তিযুদ্ধে অন্তরালের শেখ মুজিব'।
কালিদাস বৈদ্যের গ্রাম সামন্তগাতি গোপালগঞ্জ ঘেঁষা। শেখ মুজিবুর রহমানের 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' গ্রন্থেও এই অঞ্চলের হিন্দুদের প্রতিপত্তি ও দাঙ্গা প্রবণতার কথা উল্লেখ আছে। এসব কথা কালিদাস বৈদ্য অস্বীকার করেননি। তবে তার বয়ানটা সেই খাঁজকাটা খাঁজকাটা। প্রত্যেকবারই মুসলমানরা আক্রমণ করে। আর হিন্দুদের স্রেফ 'প্রতিরোধের মুখে' ৫-৬ জন দস্যু মুসলমান মারা যায়, পুড়ে ছাই হয় মুসলমান গ্রাম। কালিদাসের মুসলিম বিদ্বেষ চরমতর। পাকিস্তান ভাঙার স্বার্থে শেখ মুজিবুর রহমানের কৌশলগত আনুগত্য মেনে নিলেও তাকে আগাগোড়াই বিশ্বাসঘাতক হিসাবে মনে করতেন। যেহেতু হিন্দুদের দৃষ্টিতে ৪৬'র কলকাতা দাঙ্গার দায়ভার সোহরাওয়ার্দীর, শিষ্য হিসাবে শেখ মুজিবুর রহমানও তাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তা কালিদাস জানেন। তিনি শুনেছেন, দাঙ্গার সময় মুজিব 'ছোরা' অথবা নাঙা 'তরবারি' হাতে হিন্দুদের বিরুদ্ধে জেহাদে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।
মুসলমান মাত্রই কালিদাসের কাছে 'মৌলবাদী' ও 'সাম্প্রদায়িক'। তার দৃষ্টিতে ইসলামপন্থী নেতা অধ্যাপক গোলাম আযম, সামরিক শাসক আইয়ুব-ইয়াহিয়া আর সেক্যুলার রাজনীতিক ভুট্টো-মুজিবের কোন ফারাক নেই। এমনকি কমিউনিস্ট রাজনীতিতে যুক্ত কোন মুসলমানকেও তিনি বিশ্বাস করতেন না।
এমনই ঘোরতর সাম্প্রদায়িক মানসিকতার ফলে পাকিস্তানকে কোনভাবেই সহ্য করা সম্ভব নয় কালিদাস বৈদ্য কিংবা চিত্তরঞ্জন সুতারদের। একই কারণে বাংলাদেশ গঠনের পরও দক্ষিণ বঙ্গকে বিচ্ছিন্ন করে হিন্দু রাষ্ট্র 'বঙ্গভূমি' গঠন করতে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তারা, গড়েছিলেন স্বতন্ত্র সেনাবাহিনীও।
পাকিস্তান গঠন ও বৈদ্যবাবুর অস্বস্তি:
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান গঠনের পূর্বাপর সময়ে মুসলমানদের পরিস্থিতি একরকম ছিল না। 'বাঙালির মুক্তিযুদ্ধে অন্তরালের শেখ মুজিব' গ্রন্থের সর্বত্রই তিনি এখানকার নমঃশূদ্রকে হিন্দু সমাজ ও সংস্কৃতির 'রক্ষাকর্তা' হিসাবে উল্লেখ করতে চেয়েছেন। বিভিন্ন খেলাধুলার আড়ালে সুসংগঠিতভাবে 'যুদ্ধপ্রস্তুতি' যে থাকত, তা নিয়ে গর্বও করেছেন। পাকিস্তান সৃষ্টি পর্যন্ত কেবলই মুসলমানদের অবনতির চিত্রই তার গ্রন্থে উল্লিখিত। তার বয়ানেই যদি দেখি— "গ্রামে খেলাধুলো, নাচ গান, আনন্দ উৎসব সবই হত। তবে সব থেকে জনপ্রিয় ছিল হাঁড়ির উপর থালা রেখে তা বাজিয়ে ঢাল, সড়কি ও লাঠির খেলা। এই খেলাটি ছিল আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষার অঙ্গ।"
অন্যত্র— "দেশভাগের সময় পূর্ববঙ্গের মুসলমান সমাজের মান ছিল খুবই নিচু। হিন্দু সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশ ছিল নমঃ সম্প্রদায়। মুসলমানরা ছিল তাদের থেকেও পিছিয়ে। গোটা পূর্ববঙ্গে একজন মুসলমানও পি.এইচ.ডি. ডিগ্রীর অধিকারী ছিল। না। কিন্তু হিন্দু সমাজে তা ছিল ডজন ডজন। ...পূর্ববঙ্গে কোনও মুসলমান এমআরসিপি বা এফআরসিএস ডাক্তার ছিল না।
কিন্তু নমঃ সমাজে তেমন অনেক ডাক্তার ছিলেন। ...কোনো মুসলমান আইসিএস অফিসারও ছিল না। ছিলেন একমাত্র নমিনেটেড আইসিএস নুরনবী চৌধুরী। তিনি যুদ্ধের সময় সামরিক দপ্তরে অফিসার ছিলেন। সেই কারণে তিনি নমিনেটেড আইসিএস হতে পেরেছিলেন। ...মুসলমান সমাজের কেউ আইএফএস (ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস) ছিল না। ...দক্ষিণবঙ্গে কোনো মুসলমান ব্যারিষ্টার ছিল না। কিন্তু নমঃ সমাজে ব্যারিষ্টার ছিলেন ফরিদপুরের ওড়াকান্দির পি আর ঠাকুর. সুরেশ বিশ্বাস, খুলনার শশিভূষণ মন্ডল এবং বরিশালের ভূবন মন্ডল। এঁরা সবাই ত্রিশের দশকের প্রথম দিকেই ব্যারিষ্টার হয়েছিলেন। অথচ সমস্ত পূর্ববাংলার মুসলমানদের মধ্যে তখন একজনও ব্যারিষ্টার ছিল না। এ থেকেই বোঝা পূর্ববাংলার মুসলমানরা শিক্ষা দীক্ষায় কতখানি পিছিয়ে ছিল।
ব্যবসা বাণিজ্যের ব্যাপারেও সেই একই অবস্থা ছিল। বড় আকারের ব্যবসা বাণিজ্য দূরের কথা, ছোটোখাটো ব্যবসাতেও মুসলমানদের খুঁজে পাওয়া যেত না। ব্যবসা বাণিজ্যের সবটাই ছিল হিন্দুদের হাতে। পূর্ববঙ্গের হিন্দুদের হাতে নয়টি কাপড়ের কল, চারটি দিয়াশালাই ফ্যাক্টরি, দুইটি চিনির কল, দুইটি গ্লাস ফ্যাক্টরি, অনেকগুলি পাটের প্রেসিং ও রোলিং মিল, হোসিয়ারি কারখানা, চাল ও সরিষার তেলের বড় বড় মিল, একটা সিমেন্ট কারখানা, অনেক চা বাগান ও আমদানী রপ্তানি কোম্পানি। জমিদারদের প্রায় সকলেই ছিলেন হিন্দু। জমির মালিকানার শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ ছিল হিন্দুদের হাতে। সে সময় পূর্ববঙ্গের প্রায় ৩০ শতাংশ ছিল হিন্দু, কিন্তু সম্পদের ৮০ শতাংশ ছিল তাদের হাতে। সাংস্কৃতিক জগতেও মুসলমানদের কোনো অবদান ছিল না। ডাক্তারি, ওকালতি, শিক্ষকতা ইত্যাদির প্রায় সব পেশাই ছিল হিন্দুদের দখলে।"
কিন্তু পাকিস্তান গঠনের পর গৃহীত নানান পদক্ষেপে এই অঞ্চলের মুসলমানদের অগ্রগতি হয়। এর মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে বড় আঘাত ছিল ১৯৫০ এর প্রজাসত্ত্ব আইন। এই আইনের সুবাদে জমিদারদের কব্জা থেকে ৮০ শতাংশ জমি উদ্ধার হয়ে নিম্নবর্গের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকলের হাতে আসে। এছাড়া স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগ নানান কারণে 'পিছিয়ে পড়া' মুসলমানদের উন্নতি হতে থাকে। কিন্তু কালিদাস বৈদ্য আর চিত্তরঞ্জন সুতারদের কাছে মুসলমানদের এসব উন্নতির একমাত্র কারণ 'হিন্দুদের সম্পদ জবরদখল'। এজন্য কলকাতায় বসেই পাকিস্তানকে ভেঙে 'পূর্ববঙ্গ'কে হিন্দুদের জন্য নিরাপদ করতে শপথ নেন তারা।
পাকিস্তানের ভেতর পাকিস্তানের অসুখ:
পূর্ব পাকিস্তানে এসে চিত্তরঞ্জন সুতার ও নীরদ মজুমদার রাজনীতি শুরু করলেন। রাজনীতিকদের মধ্যে গোপনে বিচ্ছিন্নতার মনোভাব গড়ে তুলতে মনোনিবেশ করেন তারা। অন্যদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র সংসদে হিন্দু ছাত্রদের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানকে অপ্রাসঙ্গিক করে তুলতে থাকেন কালিদাস বৈদ্য। এতে বাঙালি জাতীয়তাবাদকে আশ্রয় করেন তিনি। যদিও তার কাছে হিন্দু মাত্রেই 'অসাম্প্রদায়িক' এবং মুসলিম মাত্রেই 'মৌলবাদী' ও 'জিহাদী'। মুসলমান ছাত্রদের পাকিস্তান বিরোধী হতে উস্কানি দিতে তিনি পিছপা হননি। ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলননে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ দিতেও অবদান রয়েছে তাদের। তিনি তার বইতে স্বীকার করেন— "ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে তখন অল্প সংখ্যক হিন্দু ছাত্র ছিল। তা সত্ত্বেও তারা মুসলিম মৌলবাদী ছত্রেদের রুখে দিত। এই কারণে ঐ সব মৌলবাদী মুসলমান ছাত্ররা কোনোদিনও কলেজের ছাত্র ইউনিয়নটি দখল করতে পারেনি। তার ফলে আমি যতদিন মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র ও মেডিক্যাল অফিসার ছিলাম ততদিন পর্যন্ত ছাত্র ইউনিয়ন আমাদের মতানুসারেই চলত। মৌলবাদীরা যাতে ছাত্র ইউনিয়নের কর্তৃত্ব না পায় সেজন্য আমাদের খুবই সতর্ক থাকতে হত এবং খাটতেও হত। তবে নির্বাচিত ইউনিয়ন আমাদেরই বেশি সমীহ করত। এই কারণে আমরা ঢাকা ছাত্র আন্দোলনের কর্মকর্তা না হলেও ওই আন্দোলনের নেতারা আমাদের কথা ছাড়া চলতে পারত না।
পর্দার আড়ালে থেকেই আমাদের কাজ করতে হত। ঢাকার ছাত্র আন্দোলনের মূল ঘাঁটি ছিল মেডিক্যাল কলেজ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় থেকেই এটা চলে আসছিল, কারণ মেডিক্যাল কলেজের ছাত্ররা আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিল। আমরা জড়িত ছিলাম যুব লিগের সঙ্গে। একদিকে যুব লিগ ও ছাত্রদলের চাপে ফজলুল হক, শহীদ সুরাবর্দি এবং মওলানা ভাসানি এক হয়ে ২১ দফা দাবির ভিত্তিতে ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে পূর্ববঙ্গের বিধনসভার নির্বাচনে নামলেন। সেদিন ঐ তিন নেতার ওপর সব থেকে বেশি চাপ সৃষ্টি করেছিল মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র ইউনিয়নসহ ছাত্ররা।"
এভাবে ছাত্রদের আবেগ আর বাঙালি জাতীয়তাবাদকে ব্যাবহার করে পাকিস্তানের প্রতি বিষিয়ে তুলতে কাজ করেন কালিদাস বৈদ্য। অন্যদিকে চিত্তরঞ্জন সুতার রাজনীতিকদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতার মনোভাব তৈরি করতে থাকেন। বৈদ্য আর সুতার পরামর্শ করেই কাজ করতেন। তারা দু’জনে প্রাথমিকভাবে তিনজন রাজনীতিককে বাছাই করেন। তারা হলেন ভাসানী ন্যাপের আব্দুল করিম, জাতীয় লীগের অলি আহাদ এবং আওয়ামী লীগের শেখ মুজিবুর রহমান। শেখ মুজিবুর রহমান তাদের প্রধান টার্গেট হলেও মুজিবের প্রতি তাদের ভয় ছিল। কারণ দাঙ্গার সময় মুজিব 'উন্মুক্ত ছোরা হাতে হিন্দু নিধনে জিহাদে বেরিয়ে পড়েছিলেন', আর পাকিস্তান গঠনের ক্ষেত্রে পূর্ব ফ্রন্টের সম্মুখযোদ্ধা ছিলেন তিনি। তিনি হয়তো পাকিস্তান ভাঙতে রাজি হবেন না। তাই তাকে সায়ত্তশাসনের দাবিতে ফুসলাতে থাকেন চিত্তরঞ্জন সুতার। আর আড়ালে তার সূর্য হাসে! বৈদ্যের ভাষায়— "অনেক আলোচনার পর আমরা দুজনে এই সিদ্ধান্তে এলাম যে, সামরিক শাসন জারি করে আয়ুব খান যখন তাঁর কর্তৃত্ব একবার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন, সেই কর্তৃত্ব তিনি সহজে ছাড়বেন না। তাই শীঘ্র আবার গণতন্ত্র ফিরে আসবে এ আশা করা বৃথা। এই সময়ে গোপনে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ব শাসনের দাবিকে শক্তিশালী করতে হবে এবং তার জন্য প্রাণপন চেষ্টা চালাতে হবে। আমরা এতদিনে বুঝতে পেরেছিলাম যে, পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক মহল কখনোই পূর্ব পাকিস্তানকে পূর্ণ স্বায়ত্ব শাসন দেবে না। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা যেহেতু পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে বেশি, তাই দাবি উপেক্ষিত হলে তাদের মধ্যে তিক্ততা বেড়ে যাবে। ফলে স্বায়ত্ব শাসনের আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা আন্দোলনের রূপ নেবে।"
অন্যদিকে করিম ও অলি আহাদকে সরাসরি 'স্বাধীনতা'র প্রস্তাব দেন তারা। দুজনে রাজিও হন এবং প্রচারপত্র বিলি করতে শুরু করেন। অপরপক্ষে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬২-৬৩ সালেই দুই দফা আগরতলা হয়ে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। একই সময়ে তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের নেতৃত্বে নিউক্লিয়াস গঠিত হয়। তারাও গোপনে পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে আলাদা করতে কাজ করছিল। সম্ভবত এই ব্যাপারটি কালিদাস বৈদ্য বা চিত্তরঞ্জন সুতারদের জানা ছিল না। বইতে তাদের কর্মকাণ্ডের উল্লেখযোগ্য বর্ণনা নেই। এ ব্যাপারে জানলে আগরতলা ষড়যন্ত্র পর্যন্ত তাদের অপেক্ষা করতে হত না। এ সময়ে ভিন্ন এক মামলায় চিত্তরঞ্জন সুতারও কারাগারে ছিলেন। সেখানেই শেখ মুজিবুর রহমান তার কাছে পূর্ববঙ্গের 'স্বাধীনতা'র বাসনা প্রকাশ করেন। এরপরই চিত্তরঞ্জন সুতার, শেখ মুজিব আর কালিদাস বৈদ্য পুরোদমে কাজ শুরু করেন। কখনো তারা কলকাতা যান, কখনো যান লন্ডন। এক পর্যায়ে চিত্তরঞ্জন সুতার ভারতে শেখ মুজিবের 'স্বীকৃত প্রতিনিধি' হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
কিন্তু শেখ মুজিবকে তাদের বিশ্বাস ছিল না। তাই নিজেরাই হিন্দু বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনৈতিক দল গঠন করেন। এই 'জাতীয় গণমুক্তি দলে'র ব্যানারে হিন্দুদের একত্রিত করে 'স্বাধীনতা সংগ্রামে' উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। কিন্তু তখনও 'স্বাধীনতা'র কথা প্রকাশ্যে বলা সম্ভব ছিল না খোদ বাঙালির কাছেই।
শেখ মুজিবের 'বিশ্বাসঘাতকতা':
কালিদাস বৈদ্য শেখ মুজিবুর রহমানকে আগাগোড়াই বিশ্বাসঘাতক হিসাবে দেখেছেন। তার মতে, ২৫শে মার্চ রাতে মুজিব স্বেচ্ছায় গ্রেফতার বরণ করেন। কারণ তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীত্বের লোভ ফেলতে পারেননি কিংবা নিজ হাতে গড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীত্ব ছেড়ে ভারতের তাবেদার ছোট্ট বাংলাদেশ চাননি। তার মতে, ২৪ মার্চ আলোচনাকালে ইয়াহিয়ার সাথে মুজিবের চুক্তি হয় যে শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবেন। উপপ্রধানমন্ত্রী হবেন ভুট্টো। তবে এরজন্য আগে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমন করতে হবে। নইলে তারা মুজিবকে বাঁচতে দিবে না। পরিস্থিতি শান্ত হলে মুজিব ক্ষমতায় বসবেন।
কিন্তু জিয়াউর রহমান না বুঝেই মুজিবের গ্রেফতার ও পাক বাহিনীর 'গণহত্যা'র খবরে স্বাধীনতা ঘোষণা করে বসেন। একইভাবে তাজ উদ্দীন ভারতে গিয়ে প্রবাসী সরকার গঠন করেন এবং দিল্লীর সহায়তা নেন। তারা মুজিবের মনোভাব জানতেন না। ফলে 'বাঙালি সুলভ আবেগে' এসব কাজ করে বসেন। এ কারণে পরে জিয়াউর রহমান ও তাজ উদ্দীন শেখ মুজিবের বিরাগভাজন হন। তাজ উদ্দীনকে তো এক প্রকারে ছুঁড়েই ফেলে দেন মুজিব।
একাত্তরে পাক ফৌজে কর্মরত বাঙালি সৈনিক ও সাধারণ মানুষের সমন্বয়ে প্রবাসী সরকার 'মুক্তিবাহিনী' গঠন করে। কিন্তু কালিদাস বৈদ্যদের সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিতে মুক্তিযুদ্ধে হিন্দুদের অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছিল না। তাই তারা হিন্দুদের বিশেষ একটি বাহিনী গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। এর আগে সিরাজুল আলম খান দাদাভাইদের কাছে প্রস্তাব দেন মুজিব বাহিনী গঠনের। এই বাহিনীর নেতৃত্বে ছাত্রদের 'চার খলিফা' থাকলেও এর সুতা চিত্তরঞ্জন হয়ে নাটাই ছিল র' প্রধান জেনারেল উবানের হাতে।
১৯৭১ সালের বিদ্রোহ কিংবা 'স্বাধীনতা যুদ্ধ'কে বাঙালি জাতীয়তাবাদের আড়ালে হিন্দু পুনরুত্থান হিসাবে দেখতে চেয়েছিলেন চিত্তরঞ্জন সুতার আর কালিদাস বৈদ্য; ভারতও এভাবেই দেখতে চেয়েছিল। এজন্যই তো প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বলেছিলেন, 'হাজার সালকা বদলা লিয়া'। কিংবা তৎকালীন ভারতের পূর্বাঞ্চলের আরএসএস প্রধান শ্রী ভাওরাজ বলতে পেরেছিলেন, 'মুসলমানদের বিষদাঁত ভেঙে গেছে।' কিন্তু বৈদ্য মশায়রা কোন মুসলমানকেই বিশ্বাস করতেন না। প্রবাসী সরকার, মুক্তিবাহিনী কাউকেই না। তাদের ধারণা মুসলমানরা ক্ষমতা পেলেই অত্যাচার চালাবে হিন্দুদের উপর। এর উপর লক্ষাধিক 'রাজাকার'-'আল বদর'-'আল শামস' তাদেরকে আরও ভীত করে তোলে। এসব মিলিশিয়া যদি তালিকাতেই এক লক্ষ থাকে, তাহলে সমর্থন কোনভাবেই কম না। এই শঙ্কায় হিন্দুদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া ভিন্ন আর কোন পথ খুঁজে পেলেন না তারা। শেষ পর্যন্ত ভারত সরকারের অনুমোদন না মেলায় গোপনে গড়ে তুললেন 'গণমুক্তি বাহিনী'। কিন্তু তাদের ট্রেনিং নিতে নিতেই পাক-ভারত যুদ্ধ শুরু হয় এবং পাকিস্তান দু টুকরো হয়ে যায়।
কালিদাস বৈদ্যের মতে শেখ মুজিবুর রহমান গোপনে 'ইসলামপন্থী' খন্দকার মোশতাকের সাথে যোগাযোগ করেনে। ২৮ ডিসেম্বর ঢাকায় গণ পরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়। মোশতাক প্রবাসী সরকারকে কনভিন্স করতে চেষ্টা করেন। কিন্তু ভারতের কাছে এই চাল ধরা পড়ে যায়। ফলে মোশতাককে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যেতে দেওয়া হয়নি। প্রবাসী সরকারকে নজরদারিতে রাখা হয়। একইভাবে যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানী ও সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিলও এই তালিকায় ছিলেন। গণ পরিষদের অধিবেশন ভেস্তে দিতেই তড়িঘড়ি করে ভারত হামলা চালায়।
কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, ভারতের খেয়ে পরে যুদ্ধাবস্থা তৈরি করলেও ভারত হামলা করায় নিউক্লিয়াস খুশি হয়নি। ক্ষুব্ধ ও হতভম্ব তোফায়েল এ খবরে চিৎকার দিয়ে উঠেছিলেন, "ভারতীয় সেনারা বাংলাদেশের ভিতরে ঢুকবে তা তো আমরা চাইনি।" কিন্তু ভারত বাংলায় প্রবেশের আগে ৭ দফা তাবেদারি চুক্তি করতে হয় প্রবাসী সরকারকে। এ চুক্তিতে চিত্তরঞ্জন সুতার ও বৈদ্যবাবুরা খুশি হয়েছিলেন। তবে পরে শেখ মুজিব তা আমলে নেননি।
বাংলাদেশের পর:
১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে। এদিন দেশের সার্বভৌম দলিল চলে যায় ভারতের হাতে। কালিদাস বৈদ্য তাই মনে করেন বাংলাদেশ সার্বভৌম কোন রাষ্ট্র নয়। কিন্তু শেখ মুজিব ভারতের প্রতি অকৃতজ্ঞ ছিলেন। পাকিস্তান ভেঙে গেলেও তিনি দেশে ফিরে এসে পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক তৈরিতে মন দেন। কালিদাস বৈদ্যরা ভেবেছিলেন এদেশে আর মক্তব-মাদরাসা চালু হবে না, নতুন মসজিদ তৈরি হবে না, 'তবলিগ' চলবে না। কিন্তু শেখ মুজিব তার সবকিছুই চালু করেন। ইসলামী ফাউন্ডেশন গঠন করেন, তাবলীগকে জায়গা দেন, কাকরাইল মসজিদ করেন। এসব কিছুই ঢাকার প্রভাবশালী 'হিন্দু লবি', যা কালিদাস বৈদ্যরা গড়ে তুলেছিলেন তার না-পসন্দ কাজ। এজন্য প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বরাবর পত্রও দেন বৈদ্য বাবুরা।
পরে চিত্তরঞ্জন সুতার দেশে ফিরে আসেন। 'শেখ মুজিব তাদেরকে হত্যা করবেন' এই ভয় মাথায় নিয়ে চিত্তবাবু আওয়ামীলীগ থেকে সংসদ সদস্য হন, বাকশালে যোগ দেন। তবে এ সময়ও মুজিব হিন্দুদের প্রতি বৈষম্য করেন। এক্ষেত্রে দারুণ একটি তথ্য দিয়েছেন কালিদাস বৈদ্য। সংখ্যা অনুপাতে যতজন হিন্দুর সংসদ সদস্য হওয়ার কথা, কোন সময়েই শেখ মুজিব ততজনকে দেননি। পরবর্তীকালে তার কন্যা শেখ হাসিনাও এই ধারা অব্যাহত রেখেছেন। বৈদ্যবাবুর মতে, নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে আনতে হিন্দু এলাকা বেছে নির্বাচন করেন শেখ হাসিনা।
সবশেষ সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড দিয়ে বইটি শেষ হয়েছে। এর আগেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই নাকি তারা বুঝেছিলেন শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান হবে। কয়েকজনকে এ কথা বলেনও। লেখক ৭৫ এর ১৪ আগস্ট কলকাতায় পৌঁছেন। ওইদিন রাতেই নৃশংসভাবে খুন হন মুজিবুর রহমান। এজন্য কেউ কেউ ওই সময়ে কালিদাস বৈদ্যকে দায়ী করেন। কিন্তু কালিদাস বৈদ্যের মতে, রাশিয়ার আদলে সমাজতন্ত্র কায়েম করায় পাকিস্তানই শেখ মুজিবকে হত্যা করেছে। যদিও বৈদ্যবাবু বাকশালকে 'খেলাফত' বলে মনে করেন।
বইটি পরতে পরতে মুসলিম বিদ্বেষের ছাপ স্পষ্ট। তার লেখনীতে হিন্দুত্বের গৌরব থাকলেও নিষ্পেষিত মুসলমানের আর্তনাদ প্রচ্ছন্ন ছিল। কিন্তু তার ঘৃণা তাকে তা দেখতে দেয়নি। ওই সময়ে হিন্দু-মুসলমানের কথিত 'সম্প্রীতি'র কথা বলতে গিয়ে তিনি এক জায়গায় লিখেছেন— "কবিগান ও জারিগানের আসরে নানা বিষয়ের উপর তর্ক যুদ্ধের সঙ্গে হিন্দু ও মুসলমানদের সম্পর্কেও তর্কযুদ্ধ চলত। কালী ও আালির শক্তি, কৃষ্ণ ও আল্লার দোষগুণ, হিন্দু মুসলিম সম্পর্ক, হিন্দু দেব-দেবী, রাজনীতি, সমাজ ইত্যাদি নিয়ে তর্ক যুদ্ধ হত। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা করত। কাব্যরস পরিবেশনের সঙ্গে অরুচিকর আলোচনাও চলত। কিন্তু কাব্যরসে তা শ্রুতিমধুর হতো। তাই উভয় সম্প্রদায় তা উপভোগ করত। কবিয়াল রাজেন সরকার হয়ত কৃষ্ণের পক্ষ নিয়ে হজরত মহম্মদকে দস্যু সর্দার, কামুক ও পুত্রবধূ প্রেমিক বলে অক্রমণ করে গেলেন। জবাব দিতে দাঁড়িয়ে নকুল দত্ত হয়ত কৃষ্ণকে লম্পট, চরিত্রহীন ও মামীর প্রেমিক বলে গাল দিলেন। হিন্দু মুসলমান এক সঙ্গে বসে এই সব শুনত। প্রতিবাদ করত না। উপভোগ করত।"
কিন্তু 'উপভোগ' না করে তখন উপায় ছিল কী? একটি মুসলিম গণহত্যা সম্পর্কে তার নিজেরই দাম্ভিক উচ্চারণ— "তৎকালীন ব্রিটিশ আমলে উচ্চপদের পুলিশ অফিসাররা ইংরেজ হলেও নিম্নস্তরের প্রায় সব পুলিশ অফিসারই ছিল হিন্দু। কাজেই ব্যাপারটা ওখানেই চাপা পড়ে যায়।"
সব মিলিয়ে একজনের কট্টর সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিহাসকে দেখার সুযোগ মেলে এ বইটিতে। একইসাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আড়ালে ভারতের 'স্বার্থ' আর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ক্রিয়াশীল শক্তিশালী হিন্দু লবির 'আকাঙ্ক্ষা' এবং একটি ভাষা আন্দোলনের ছাইভস্মকে ধীরে ধীরে 'স্বাধীনতা'র দাবিতে বিস্ফোরণের পিছনে তাদের ষড়যন্ত্র কিংবা প্রচেষ্টার চিত্রও বইটিতে পাওয়া যায়। তবে একই লক্ষ্যে, অথচ সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে গঠিত নিউক্লিয়াসের (প্রকাশ্য নাম: স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ) অবদান কিংবা ব্যক্তি হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান অনালোচিত। উল্টো মুজিবকে 'স্বাধীনতা বিরোধী' হিসাবে প্রমাণের চেষ্টা আছে বইটিতে। এটা হয়তো এজন্যই সম্ভব হয়েছে যে, প্রত্যেক মুসলমানই বৈদ্যবাবুর কাছে ইসলামপন্থী, ভারতের অস্তিত্ব বিরোধী।
বইটি পড়লে মনে হয়, বাঙালির স্বাধীনতা যুদ্ধ স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের চেয়ে সাজানো একটি মঞ্চ মাত্র। সত্য-মিথ্যা আর প্রোপাগান্ডা ঝেড়ে ফেলে এর বিচারের দায়ভার পাঠকের।
বই: বাঙালির মুক্তিযুদ্ধে অন্তরালের শেখ মুজিব
লেখক: ডা. কালিদাস বৈদ্য
প্রকাশ: ২০০৫, কলকাতা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৪

0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন