আব্দুল্লাহ আয যামের শাহাদাতের পর জিহাদী হিস্ট্রির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ট্র্যাজেডি হচ্ছে মুস্তাফা সালাবির শাহাদাত।
.
আব্দুল্লাহ আযযামের শাহাদাতের পরেও মাকতাব আল খেদমাত কয়েকটা মহাদেশে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। ফলে আযযামের শাহাদাতের পরে একটা গোষ্ঠী জিহাদের অথরিটি নিজেদের হাতে নিতে চাইলে এপথে একমাত্র শত্রু হয়ে দাঁড়ায় আযযামের প্রতিষ্ঠা করা আফগান জিহাদের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত মাকতাব আল খেদমাত। মাকতাব আল খিদমাতের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
.
মাকতাব আল খেদমাতের কর্মকান্ডের অন্যতন প্রধান কেন্দ্র ছিলো ইউএসএ। আযযাম প্রতি বছরেই ইউএস যেতেন আফগান জিহাদের বার্তা পৃথিবীর কাছে পৌছানোর জন্য। কোন সফরে আযযাম নিজে যেতে না পারলে তামীম আল আদনানীকে পাঠাতেন। আযযামের শাহাদাতের পর ইউএসএতে এই প্রতিষ্ঠানের দেখাশোনার দায়িত্বভার পরে মুস্তাফা সালাবির উপর।
.
১৯৯০ সালে ইজিপশিয়ান ইসলামিক জিহাদের সাথে এফিলিয়েটেড শায়েখ ওমর আব্দুর রহমান (চোখ অন্ধ থাকায় তিনি পরবর্তীতে ব্লাইন্ড শায়েখ নামে খ্যাতি লাভ করেন) নিউইয়র্কে বসবাস শুরু করেন। তিনি ছিলেন আযহারাইট। যদিও তিনি আব্দুল্লাহ আযযামের বিরোধীতা করতেন তবে একজন আযহারাইট মানবেতর জীবন যাপন করবেন সেটা আযযাম মেনে নিতে পারেন নি। আযযামের জীবদ্দশাতেই মাকতাব আল খেদমাত থেকে তার জন্য এলাওয়েন্স বরাদ্দ ছিলো।
.
যখন তিনি নিউইয়র্কে মুভ করেন তখনো তার এপার্টমেন্ট, টেলিফোন, কার ও ড্রাইভারের সকল ব্যয় বহন করে মাকতাব আল খিদমাত। কিন্তু ব্লাইন্ড শায়েখ চেয়েছিলেন আব্দুল্লাহ আযযামের এই সংগঠনকে ইজিপশিয়ান ইসলামিক জিহাদের জন্য উন্মুক্ত করে এর নিয়ন্ত্রণ নিতে। কিন্তু মুস্তাফা সালাবী এতে রাজি হননি। এর কিছুদিন পরেই ব্লাইন্ড শায়েখ মুসতাফা সালাবীকে "অসৎ" আখ্যা দেন এবং মুস্তাফা সালাবীকে সমাজচ্যুত করার আহবান জানান।
.
মুস্তাফা সালাবী আসন্ন বিপদ বুঝতে পেরে তার স্ত্রীকে মিশর পাঠিয়ে দেন এবং তিনি নিজেও আফগানিস্তানে চলে যাওয়ার জন্য মনস্থির করেন। কিন্তু নিউইয়র্কের এয়ারপোর্টে ব্লাইন্ড শায়েখের প্রতি অনুগতরা তাকে হত্যা করে। বলাই বাহুল্য, মুস্তাফা সালাবির মৃত্যুর পর ইউএসএতে মাকতাব আল খেদমাতের কার্যক্রম স্থবির হয়ে যায়।
.
মুস্তাফা সালাবির মৃত্যু একজন ব্যক্তির মৃত্যু ছিলো না, ছিলো শত শত মুজাহিদীনদের রক্ত দিয়ে তৈরি করা এক সংগঠনের মৃত্যু। যারা আযযামের জীবদ্দশায় পেশওয়ারে বসে কুৎসা রটাতো তারাই আযযামের মৃত্যুর পর তার সংগঠনকে ধ্বংসের জন্য একে একে জিহাদের মাস্টারমাইন্ডদেরকে খুজে খুজে হত্যা করেছে। আজকে এরা নিজেদের লেজিটিমেসির জন্য আযযামকে পূজা করে। আযযামের প্রিয়জনদের হত্যা করা তারাই নাকি আযযামের লেগ্যাসির ধারক ও বাহক।
0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন