ইসলামে জোরজবরদস্তি নেই- এর মর্ম শুধু এই যে, ইসলাম তাঁর আকীদা-বিশ্বাসকে মেনে নিতে কাউকে বাধ্য করে না। কেননা এটা জোরপূর্বে চাপিয়ে দেয়ার জিনিস নয়।
অনুরূপভাবে, তার আকীদা-বিশ্বাসের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পৃক্ত ইবাদাতকেও সে কারাের ওপর বল প্রয়ােগে চাপিয়ে দেয় না। কেননা সুষ্ঠু ঈমান ছাড়া এসব ইবাদাত একেবারেই অর্থহীন। এই দুটো ব্যাপারেই সে প্রত্যেক মানুষকে স্বাধীনতা দিতে প্রস্তুত। কিন্তু ইসলাম এটা সহ্য করতে প্রস্তুত নয় যে, সমাজ ও সভ্যতাকে পরিচালনাকারী যে আইন ও বিধানের ওপর রাষ্ট্রের কাঠামাে ও বিধি-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত, তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ রচনা করে দিক, আল্লাহর বিদ্রোহী ও অবাধ্য লােকেরা আল্লাহর যমীনে তার প্রয়ােগ ও বাস্তবায়ন করুক এবং মুসলমানরা তাদের তাবেদার হয়ে থাকুক।
এ ব্যাপারে একটি জনগােষ্ঠীকে অন্য জনগােষ্ঠীর ধর্মে অবশ্যই হস্তক্ষেপ করতে হবে। মুসলমানরা যদি কুফরী ধর্মে হস্তক্ষেপ না করে তা হলে কুফরী আদর্শের অনুসারীরা “ইসলাম ধর্মে” হস্তক্ষেপ করেই ছাড়বে। আর এর ফল দাঁড়াবে এই যে, মুসলমানদের জীবনের একটা বিরাট অংশে কুফরী ব্যবস্থা প্রচলিত হয়ে পড়বে। সুতরাং হস্তক্ষেপটা খােদাদ্রোহীদের পক্ষ থেকে না হয়ে মুসলমানদের পক্ষ থেকে হােক এবং মুসলমানরা সামনে অগ্রসর হয়ে গােটা সমাজ ও রাষ্ট্রকে দখল করে নিক এটাই ইসলামের দাবী ও তাগিদ। এ কাজটা সম্পন্ন হওয়ার পর কেবলমাত্র আকীদা বিশ্বাস ও ইবাদত-উপাসনার প্রশ্নে অমুসলিমদের সাথে (ইসলামে জোরজবরদস্তি নেই) এই নীতি অনুসরণ কতে হবে।
0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন