দ্বীনকে জীবনের উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করার মাঝে জীবনের সাফল্য নিহিত

আত্মনিয়ন্ত্রন-আলী আহমাদ মাবরুর

১। আত্মনিয়ন্ত্রনের অর্থ হলো, চারিপাশে যা কিছুই হয় তাতেই হুটহাট প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করা। বরং এমন বিষয়েই কথা বলা বা প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত, যে বিষয়ে আমাদের নিজেদের পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে অথবা আমরা অন্য কারো কাছ থেকে বিষয়টি জেনেছি।

মানুষ তার এক জীবনে অসংখ্যবার এমন সময় পার করে যখন তাকে সক্রিয় থাকতে হয় আবার অনেক সময় এমনও আসে, যখন তাকে নিষ্ক্রিয় থাকতে হয়।
রাসুল সা. বলেছেন, “প্রতিটি কাজেরই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবেদন থাকে। তারপর সময় যখন চলে যায়, তখন আবেদনটাও নি:শেষ হয়ে যায়।” (ইবনে হিব্বান)
বর্তমান সময়ে আমাদের কার্যক্রম বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের ইস্যুভিত্তিক তাৎক্ষনিক সক্রিয়তা দেখে রাসুলের সা. এ হাদিসটির যথার্থতা যেন বারবার প্রমাণ হয়।
আমাদের এ ধরনের কাজে বেশি ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করা উচিত, যে কাজগুলো এখন হচ্ছে কিন্তু এর আবেদন ও প্রভাব অনেকদিন পরেও একইভাবে টিকে থাকে। আর এ ধরনের স্থায়ী পরিণামদর্শী অনেক কাজের পথ ইসলাম আমাদের সামনে খুলে দিয়েছে।
যদি একটি কাঠামোকে চুড়ান্ত ও স্বার্থক পরিণতি দিতে হয়, তাহলে ক্ষেত্রবিশেষে নগদ কাজেরও প্রয়োজন আছে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদের কথা চিন্তা করে কাজ করা প্রয়োজন।
 

২। হযরত আলী ইবনে আবু তালিব রা. প্রায় সময়ই বলতেন, “মানুষ আদিসূত্রে সকলেই এক। কেননা তাদের পিতা হলেন আদম আ. আর মা হলেন হাওয়া আ.। মানুষ গাঠনিকভাবেও সদৃশ। তাদের রূহের গন্তব্যও একই স্থানে। শরীরের হাড় ও গোশতও একইভাবে সজ্জিত।
প্রকৃতপক্ষে, মানুষে মানুষের পার্থক্য নিহিত থাকে তার জ্ঞানে। কিংবা কোন মানুষ কতজনকে হেদায়েতের পথে ধাবিত করতে পারলো, সেখানেই তার স্বার্থকতা। একজন ব্যক্তি যে কাজটি ভালোভাবে করতে পারে তাই তার জন্য সবচেয়ে বেশি স্বস্তির কারণ হয়। কারণ, মানুষের কর্মেই তার নামের পরিচিতি। অপরদিকে, মানুষের সবচেয়ে বড়ো শত্রু হলো তার অজ্ঞতা কারণ অজ্ঞ মানুষেরাই জ্ঞানীদেরকে অবমুল্যায়ন করে।”


Share:

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আর্কাইভ