দ্বীনের মৌলিক মাকাসিদ হচ্ছে 'হিফযুদ দ্বীন'
যখন এমন সময় এসে হাজির হয় যে সময় এটা বাছাই করতেই হয় যে, আপনাকে হয় 'হিফযুদ দ্বীন- নাহয় হিফযুন নাফস' ঠিক করে নিতে হয় তখন সবাই হিফযুদ দ্বীনে অটলে থাকতে পারেন না।
মতিউর রহমান নিজামীর সেই সুযোগ ছিল। তিনি চাইলেই পারতেন তাঁর জীবন রক্ষা করতে। কিন্তু তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল দ্বীনের হেফাযত করা। এজন্য তিনি নিজের জীবনকে শাহাদাতে বিলিয়ে দিয়েছিলেন।এর প্রমাণ হলো- সরাসরি তিনি প্রতিনিধিত্ব করেন উম্মাহর প্রতিটা শাখা প্রশাখায়।তাঁর বিচ্যুতি মানে হচ্ছে মানুষের স্পিরিট থেকে দ্বীনের বিচ্যুতি।
এবং তিনি এর মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছিলেন, সাহাবায়ে কেরাম যেভাবে দ্বীনের হেফাযতের জন্য জিহাদ করে শহীদ হয়েছিলেন, ঠিক তেমনি তিনি ও তাঁর টিমও এভাবে দ্বীনের হেফাযতের জন্য শাহাদাত কবুল করে নিয়েছিলেন।
হে- দ্বীনের মাকাসিদের জন্য হিফযুন নাফস ও হিফযুল মাল ও অনেক জরুরি। তবে সবার জন্য সব সমান না। যেমন আপনি যখন একটা মাদ্রাসা নিয়ে দাওয়াতী কাজে থাকবেন (হোক নিজে আপনি শায়খুল হাদীস বা যুবদাতুস সালেহীন) তখন আপনার জন্য হিফযুন নাফস কে গ্রহণ করাই অধিক কল্যাণকর। কারণ একটা মাদ্রাসায় আর কয় পার্সেন্ট মানুষ বাস করে? তার পার্সেন্টেজ দশমিক এর কোটায়। এরচেয়ে আপনার মত একজন নিরীহ হুজুরের জান বাঁচানো ফরজ।
এই দুই চারজন মানুষের জন্য কি আর এমন কাজ, কি আর এমন হেফাযত করবেন। সর্বোচ্চ নিজের জান ও মাল নিয়ে বাঁচাই আমার কাছে মনে হয় সর্বোচ্চ। এখন কথা হলো তাহলে দ্বীনের আন্দোলনের অথরিটি কার? যে নিজের জান ও মালের হেফাযত করবে তার হাতে( যদিও তিনি শায়খুল হাদীস)? নাকি যে জান মাল আল্লাহর কাছে কুরবানী দিয়ে দ্বীনের হেফাযত করে তাঁর কাছে?
দ্বীনের জন্য বড় বড় শায়খ, শায়খুল হাদীস বেশি জরুরি নয়-আবার জরুরিও। কিন্তু সবচেয়ে বেশি জরুরি হলো- কে দ্বীন রক্ষার্থে দাঁড়িয়ে থাকবে? কে আল্লাহর জন্য সাহায্যকারী হবে?
বড়বড় শায়খদের প্রচেষ্টা ও ইচ্ছা তো দ্বীন পর্যন্ত যায়ই না। তাইলে আমার প্রশ্ন হলো কেন তারা নিজেদেরকে দ্বীনের রক্ষাকবচ মনে করেন? আশ্চর্য! দ্বীনের হেফাযত ও সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর তো থাকবেন তিনিই- যার মাকাসিদ হলো দ্বীন রক্ষা। সবার তো বাইয়াত নিতে হবে তার হাতেই যার উদ্দেশ্য হবে দ্বীন রক্ষা।
সেই হিসেবে যিনি দ্বীনকে খালেস করেছেন আল্লাহর জন্য এবং দ্বীনকে হেফাযত করেছেন আল্লাহর জন্য, যিনি অন্য সকল চিন্তা- মতবাদ- দর্শন এর বিপক্ষে লড়াই করে দ্বীন'কে বিজয়ী করতে চান তার কাছেই তো সবার বাইয়াত নেয়া ও তার অধীনে অনুগত থাকা উচিত।
তাহলে দেখা গেল বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, ইসলাম রক্ষার জন্য তার কাছেই বাইয়াতবদ্ধ হওয়া জরুরি যিনি দ্বীনকে হেফাযতের জন্য নিজের জীবনকে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের কাছে বিক্রি করেছেন। এবং সব সময় সবার উচিত সেই ব্যক্তি ও দলের কাছে ধর্ণা দেয়া। যেন তাদের পতাকাতলে শামিল হয়ে দ্বীন কায়েম করা যায়।
এবং একই সাথে নিজের নফসের রক্ষা থেকে উন্নতি অর্জন করা দ্বীন রক্ষার কাজে লেগে থাকা যায় সেই প্রচেষ্টায়ই মূলত সেই দলের নিকট বাইয়াতবদ্ধ হওয়া উচিত। তিনি হোন বড় শায়েখ মুফতি শায়খুল হাদীস যেই হোন না কেন।
দ্বীন রক্ষায় নিজামীরা লড়াইয়ে নেমেছিলেন হোসাইন রা. ও আব্দুল্লাহ রা. এর মত। তাঁদেরকে যেভাবে অন্যন্যরা সাহায্য করেছিলেন এ যুগের শায়খগণ তো দ্বীন রক্ষার জন্য দেয়া শাহাদাতকে সেভাবে সাহায্য করতে পারেননি। তাহলে হাদীস দারস-বোখারী মুখস্থ- তাফসীর লেখা এগুলো শুধুমাত্র দলিল আদিল্লার জন্যই দরকার পড়ে।
তাও যে দলীল হিফযুদ দ্বীন কে, রিয়াসাতে ইসলামকে ও তাঁর কর্মীদের চিনতে পারেনা তাদের কাছে আশ্রয় নিতে পারেনা সেই দলিলেরও বিশেষ প্রয়োজন নাই। দলিল দরকার জিহাদের জন্য কিন্তু আপনার মুখে আর কিতাবে পড়ে আছে তাহলে কি আর এই দলিল দিয়ে দ্বীন রক্ষা সম্ভব?
আল্লাহ আমাদেরকে দ্বীনের হেফাযতের জন্য,দ্বীনের রক্ষার জন্য যেন সদা কাজ করার ও তৌফিক দেন। আমীন।
0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন