ইতালিয়ান সেনাদের অধিকৃত অঞ্চলের অনেক ভেতরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবা সিদি ( মিশরীয় পরিভাষায় সাইয়্যেদ বা নেতা) রফির মাজার । যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত বৃদ্ধ মুজাহিদ নেতার শখ হলো যে, জীবনের এই শেষ সময়ে আল্লাহর রাসুলের সাহাবীর মাজার জিয়ারত করবেন তিনি । তার এই মুজাহিদ দলটি ইতালিয়ান সেনাদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত যুদ্ধ করতে করতে অস্ত্রশস্ত্র এবং লোকবলের অভাবে ক্রমেই দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়ে যাচ্ছে । আস্তে আস্তে হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে মুজাহিদদের হাতে থাকা অঞ্চলগুলো । তারপরেও মজাহিদ নেতার একটাই পণ “ আমাদের ধর্ম আমাদের আজাদীর জন্য আমাদের সংগ্রাম করতে হবে যতক্ষণ না আমরা হানাদারকে তাড়িয়ে দিতে পারছি অথবা আমরা নিজেরা মৃত্যু বরণ করছি ...আমাদের আর কোন বিকল্প নেই...”
সিদি ওমর এবং তার ২০-২৫ জন সঙ্গিসহ অত্যন্ত গোপনে এগিয়ে যাচ্ছেন ইটালি অধিকৃত সিবিআর অনেক ভেতরে লক্ষ্য তাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু (সাঃ) সাহাবীর মাজার জিয়ারত করবেন । কোন না কোন ভাবে তাদের এই আগমন জানতে পারে যায় ইতালিয়ানরা । ইতালিয়রা উপত্যকার দুই পাশ বন্ধ করে দেয়। পালিয়ে বাঁচার পথ তাদের খোলা ছিল না । সিদি ওমর শেষ এবং তার মুজাহিদীনরা আত্মরক্ষার জন্য লড়াই শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত লড়তে লড়তে তিনি আর তার দুই সঙ্গী বেঁচে রইলেন । যুদ্ধের এক পর্যায়ে তিনি যে ঘোড়ায় সওয়ার ছিলেন শত্রুর গুলিতে মারা যায় এবং ঘোড়াটি পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনিও মাটিতে গড়িয়ে পড়লেন । কিন্তু বৃদ্ধ সিংহ তখনও রাইফেল দিয়ে গুলি চালিয়ে যেতে থাকলেন । এক সময় একটি বুলেট এসে তার একটি হাত চুরমার করে দেয় ; তখন তিনি অন্য হাত দিয়ে গুলি করতে থাকেন, কিন্তু এক সময় গুলিও শেষ হয়ে গেল ।
তখন ওরা তাকে ধরে ফেলল এবং তাকে বেঁধে নিয়ে গেল। তাকে হাজির করা হল জেনারেল গ্র্যাজিয়ানির সম্মুখে । সে তাকে জিজ্ঞেস করেঃ ‘তুমি কি বলবে যদি ইতালি সরকার তার মহৎ করুণা বসে তোমাকে বেঁচে থাকার অনুমতি দেয়? তুমি কি ওয়াদা করতে রাজি আছো তুমি তোমার জীবনের বাকি বছরগুলো শান্তিপূর্ণ ভাবে কাটাবে?’ কিন্তু সাইয়্যেদ ওমর আল মুখতার জবাব দিলেনঃ ‘তোমাদের বিরুদ্ধে আমি ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধে ক্ষান্ত দেব না যতক্ষণ না তোমরা আমার দেশ ত্যাগ করছো অথবা আমি আমার জীবন থেকে বিদায় নিচ্ছি । মানুষের অন্তরে যা আছে আল্লাহ তা জানেন আমি তার নামে কসম করে আমি তোমাকে বলছি, যদি এই মুহূর্তে আমার হাত দুটি বাধা না থাকতো, আমি আমার খালি হাত নিয়ে তোমার সঙ্গে লড়াই করতাম যদিও আমি বৃদ্ধ এবং বিধ্বস্ত……’
এতে জেনারেল গ্র্যাজিয়ানি হো হো করে হেসে ওঠে এবং সুলুকের বাজারের মধ্যে সিদি ওমরকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করার হুকুম দেয় । 16 সেপ্টেম্বর 1931 সালে ওরা সেরকম কার্যকর করা হয় । আর বিভিন্ন তাবুতে যেসব হাজার হাজার নর-নারীকে কায়েদ করে রাখা হয়েছিল, তাদেরকে ভেড়ার পালের মত একত্র করে হাকিয়ে নিয়ে এসে ফাঁসির কাষ্টে তাদের নেতার মৃত্যু দেখাতে বাধ্য করা হয় ।
মহান আল্লাহ বীর মুখতারকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে স্থান করে দিন। আমীন।

0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন