দ্বীনকে জীবনের উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করার মাঝে জীবনের সাফল্য নিহিত

ঘুরে ফিরে মুসলিম হত্যা করাই যেন টার্গেট...আলী আহমাদ মাবরুর

ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফিজিশিয়ানস ফর সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি, পিআরএস একটি গবেষণায় জানিয়েছিল, ২০০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ওয়ার অন টেরর শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক হিসেবেই ৬০ লাখের বেশি মানুষ হত্যা করা হয়েছে, যার সিংহভাগ মুসলিম। ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে নানা অজুহাতে এ হত্যাকান্ডগুলো ঘটেছে।

ইরাকে ২০০৩ সালের যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে নিহত হয়েছে ১০ লাখের বেশি মানুষ। এক নাজাফেই গন কবর খুড়ে ৪০ হাজার লাশ পাওয়া গিয়েছিল, যার সিংহভাগই মার্কিন আগ্রাসনের পরবর্তী সময়ের ভিকটিম বলে ধারনা করা হচ্ছে। গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়, সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বাগদাদে, আনবার ও হযরত ইউনুস আ. এর জন্ম স্মৃতি বিজড়িত নিনেভায়। গবেষকরা জানান, তারা আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই তথ্যগুলো উদঘাটন করেছেন। তবে তাদের কাজে নানাভাবে মার্কিন সেনা ও ইরাকী প্রশাসন বাঁধা দিয়েছে। এ গবেষণার ফলাফল যেন প্রকাশ করা না হয়, সে জন্যেও এ প্রতিষ্ঠানকে চাপের মুখে রাখা হয়েছে।
ইরাকে শুধু যে বোমা ফেলে বা গুলি করে মানুষ হত্যা করা হয়েছে তাই নয়, কুয়েতে ইরাক আগ্রাসন চালানোর প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের ব্যানারে যুক্তরাষ্ট্র যখন দেশটির ওপর অবরোধ আরোপ করে, তখনও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যদির অভাবেও দেশটিতে অসংখ্য মুসলিম মারা গেছে। জাতিসংঘের হিসেবেই নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের কারণে ১৭ লাখ মানুষ ইরাকে অনাহারে অর্ধাহারে মারা গেছে যার অর্ধেকই শিশু।
মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিআইএ’র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী ইরাকে গনবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার অজুহাতে ইরাকে হামলা চালানোর কয়েক বছর আগেই ইরাকে গনহত্যা চালানোর বিষয়ে একটি নীল নকশা প্রনয়ন করা হয়। এ হিসেবে উপসাগরীয় যুদ্ধকে কেন্দ্র ১৯৯১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ১৯ লাখ ইরাকী মানুষ এবং এরপর ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে আরো ১০ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়। এক্ষেত্রেও ভিকটিমের ৮৫ ভাগই মুসলিম।
ঠিক একইভাবে আফগানিস্তানে হত্যা করা হয়েছে ৫ লাখ ২০ হাজার মানুষকে আর পাকিস্তানে নিহতের সংখ্যা ৮০ হাজার। এ যুদ্ধের সরাসরি ভিকটিম ও পরোক্ষ ভিকটিম মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা হবে ২০ লাখের বেশি। আফগানিস্তানে ২০০১ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৩০ লাখ মানুষ মারা গেছে যার মধ্যে ৯ লাখের বয়স ৫ বছরের নীচে। মেলবোর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট প্রফেসর গিডেন পলওয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
Share:

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আর্কাইভ